রাজশাহী বিভাগে কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সারের মজুত ও সরবরাহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী। একই সঙ্গে সারের মজুত, সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় নিয়মিত নজরদারি এবং কোনো ধরনের অনিয়ম, মজুতদারি বা পাচারের সুযোগ না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বুধবার সকালে বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে রাজশাহী বিভাগের সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক বিশেষ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় বিভাগীয় দপ্তরগুলোর প্রধান এবং রাজশাহী বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসকরা অংশ নেন।
সভায় সারের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিশনার বলেন, কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী সময়মতো সার পৌঁছে দিতে প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, বিএডিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বরাদ্দ অনুযায়ী সার ডিলারের গুদামে পৌঁছেছে কি না এবং সেখান থেকে প্রকৃত কৃষকের কাছে যথাযথভাবে বিতরণ হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সারের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়ে মো. ইউসুফ আলী বলেন, গণমাধ্যমে তথ্য দেওয়ার আগে প্রকৃত মজুত, বরাদ্দ ও বিতরণের পরিসংখ্যান যাচাই করতে হবে। ভর্তুকি মূল্যের সার যাতে সঠিকভাবে কৃষকের হাতে পৌঁছে, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় সার পাচার বন্ধে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সভায় ডিলারদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একটি অনিয়মের ঘটনায় বিপুল পরিমাণ সার উদ্ধারের তথ্যও সভায় তুলে ধরা হয়।
সভায় কৃষকের মৌসুমভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহের পাশাপাশি সুষম সার ব্যবহারে কৃষকদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কম্পোস্ট ও অন্যান্য জৈব উপাদান ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করার আহ্বান জানানো হয়।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ
সভায় বিভাগের ডেঙ্গু পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জে পরিস্থিতির ওপর বাড়তি নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৭১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, লার্ভিসাইড প্রয়োগ, ফগিং এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সড়ক, বিদ্যুৎ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় নজরদারি
সড়ক প্রশস্তকরণের সময় দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলো সম্ভব হলে সরল করা, প্রয়োজন অনুযায়ী ডিভাইডার স্থাপন এবং নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে সভায় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কা থাকলে সম্ভব হলে আগেই গ্রাহকদের অবহিত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
সরকার নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রাত ৮টার পর দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কৃষক ও ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম
সভায় কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় উপকারভোগীদের তালিকা সংশ্লিষ্ট সব উপজেলায় প্রকাশ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে বড় ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে সভায় জানানো হয়।
দেশব্যাপী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে রাজশাহী বিভাগের জেলা, উপজেলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরগুলোকে লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, মাদক পাচার ও কারবার বন্ধ এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, রাজশাহী বিভাগের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সরকারি দপ্তরগুলোকে পারস্পরিক সমন্বয় ও টিমওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। কার্যকর মনিটরিং ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
রাজশাহী প্রতিনিধি 


















