ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
এআই দিয়ে সেনা কর্মকর্তা পরিচয়, স্কুলছাত্রীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার সাড়ে পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম রাজস্ব ৫৯৯ কোটি টাকা বাল্যবিবাহ কোনো সমাধান নয়, তৈরি করে বড় সামাজিক সংকট: মাহদী আমিন মিয়ানমারের শান্তি ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ইউনূস-সাসাকাওয়া বৈঠক ২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানি সংকট সমাধানের পরিকল্পনা সরকারের জাতীয় সংসদে আরও চার স্থায়ী কমিটি গঠন ইয়ামালের জোড়া গোলে ভ্যালেন্সিয়াকে উড়িয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা জরুরি মেরামতে ৩ দিন বন্ধ থাকবে কালিরখাল বেইলী সেতু দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের টেস্ট দলে লাবুশেন, ফিরলেন কুনেমান-নেসার সরকারি হাসপাতালে চালু হবে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, অগ্রাধিকার পাচ্ছে রোগীর তথ্য সুরক্ষা

মিয়ানমারের শান্তি ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ইউনূস-সাসাকাওয়া বৈঠক

মিয়ানমারে জাতীয় পুনর্মিলন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়ে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলোচনা করেছেন মিয়ানমারে জাতীয় পুনর্মিলনবিষয়ক জাপানের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া।

সোমবার ঢাকার ইউনূস সেন্টারে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি, দেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক পরিবর্তন, আঞ্চলিক যোগাযোগ, সামাজিক ব্যবসা এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির বিষয় গুরুত্ব পায়।

জাপানি প্রতিনিধিদলে নিপ্পন ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি শোটা নাকায়াসু, আন্তর্জাতিক কর্মসূচির সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার ফ্রাঞ্জ কেন কুরিবায়াশি, সিনিয়র প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর তোরু কিমুরা, দোভাষী কিমিয়ো মাচিদা এবং সেন্টার ফর মেডিয়েশন সাপোর্টের পরিচালক ড. আকিকো হোরিবা ছিলেন। এছাড়া সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো ও রিকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাওনোরি কুসাকাবে এবং ড. শিহো তানাকাও প্রতিনিধি দলে ছিলেন।

বৈঠকে গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হাসান ও ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

সাসাকাওয়া বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ড. ইউনূসকে অভিনন্দন জানান তিনি। বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রশংসা করে বিশ্বজুড়ে সম্পদের ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রীভবন মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন সাসাকাওয়া।

জুলাই আন্দোলনে তরুণদের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গও বৈঠকে উঠে আসে। তরুণদের আত্মত্যাগকে অর্থবহ করতে তাদের জন্য শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার নতুন সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন সাসাকাওয়া।

বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় রোহিঙ্গা সংকট। ড. ইউনূস রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মৌলিক মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। পরিচয় ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে একটি প্রজন্ম বেড়ে উঠলে তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

সাসাকাওয়া জানান, তিনি রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন এবং সেখানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়ে জাপানের সহযোগিতা থাকবে।

আলোচনায় বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার সম্ভাবনাও উঠে আসে। ড. ইউনূস বলেন, আধুনিক বন্দর অবকাঠামো ও কার্যকর আঞ্চলিক যোগাযোগ গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই দিয়ে সেনা কর্মকর্তা পরিচয়, স্কুলছাত্রীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

মিয়ানমারের শান্তি ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ইউনূস-সাসাকাওয়া বৈঠক

Update Time : ০৫:৩৩:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিয়ানমারে জাতীয় পুনর্মিলন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়ে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলোচনা করেছেন মিয়ানমারে জাতীয় পুনর্মিলনবিষয়ক জাপানের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া।

সোমবার ঢাকার ইউনূস সেন্টারে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি, দেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক পরিবর্তন, আঞ্চলিক যোগাযোগ, সামাজিক ব্যবসা এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির বিষয় গুরুত্ব পায়।

জাপানি প্রতিনিধিদলে নিপ্পন ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি শোটা নাকায়াসু, আন্তর্জাতিক কর্মসূচির সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার ফ্রাঞ্জ কেন কুরিবায়াশি, সিনিয়র প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর তোরু কিমুরা, দোভাষী কিমিয়ো মাচিদা এবং সেন্টার ফর মেডিয়েশন সাপোর্টের পরিচালক ড. আকিকো হোরিবা ছিলেন। এছাড়া সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো ও রিকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাওনোরি কুসাকাবে এবং ড. শিহো তানাকাও প্রতিনিধি দলে ছিলেন।

বৈঠকে গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হাসান ও ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

সাসাকাওয়া বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ড. ইউনূসকে অভিনন্দন জানান তিনি। বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রশংসা করে বিশ্বজুড়ে সম্পদের ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রীভবন মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন সাসাকাওয়া।

জুলাই আন্দোলনে তরুণদের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গও বৈঠকে উঠে আসে। তরুণদের আত্মত্যাগকে অর্থবহ করতে তাদের জন্য শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার নতুন সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন সাসাকাওয়া।

বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় রোহিঙ্গা সংকট। ড. ইউনূস রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মৌলিক মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। পরিচয় ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে একটি প্রজন্ম বেড়ে উঠলে তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

সাসাকাওয়া জানান, তিনি রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন এবং সেখানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়ে জাপানের সহযোগিতা থাকবে।

আলোচনায় বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার সম্ভাবনাও উঠে আসে। ড. ইউনূস বলেন, আধুনিক বন্দর অবকাঠামো ও কার্যকর আঞ্চলিক যোগাযোগ গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে।