চিলির সাবেক স্বৈরশাসক অগাস্তো পিনোশের সামরিক শাসনামলে নিহত ও নিখোঁজদের স্মরণে আয়োজিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটিতে ২৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চিলির সরকার।
১৯৭৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত পিনোশের শাসনামলের অবসানের পর প্রতি বছর ১১ সেপ্টেম্বর সামরিক অভ্যুত্থান ও এর শিকারদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি হয়ে আসছে। তবে এবার প্রথমবারের মতো এ উপলক্ষে কোনো সরকারি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়নি।
চিলির প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্ত এ প্রসঙ্গে বলেন, দেশের অতীতের ইতিহাস মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে হলে অতীতের কারণে দেশকে অনন্তকাল আটকে রাখাও উচিত নয়।
মার্চে দায়িত্ব নেওয়া কাস্ত পিনোশে-পরবর্তী চিলির ইতিহাসে প্রথম কট্টর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসেন।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, পিনোশের শাসনামলে চিলিতে ৩ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন। এ ছাড়া হাজারো মানুষ নির্যাতন ও কারাবন্দিত্বের শিকার হন।
এবারের স্মরণ কর্মসূচিকে ঘিরে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর ও লাঠি নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ।
জননিরাপত্তামন্ত্রী মার্টিন আরাউ জানান, দুই দিনে মোট ২৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ১৬ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৩১ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিক্ষোভ চলাকালে ১৯৮টি সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেলেও কোনো বেসামরিক নাগরিক আহত হননি।
স্মরণ কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় রাজধানী সান্তিয়াগোর জেনারেল সেমেট্রিতে। সেখানে সাবেক সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট সালভাদর আয়েন্দের পরিবারের সমাধি রয়েছে। সমাবেশে দেশটির সাবেক বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিচও অংশ নেন।
এ ছাড়া লা মোনেদা প্রাসাদ ও ন্যাশনাল স্টেডিয়ামেও বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭৩ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের সময় লা মোনেদা প্রাসাদে আয়েন্দের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে পিনোশে সরকারের আমলে ন্যাশনাল স্টেডিয়ামকে আটক ও নির্যাতনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 



















