ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
বেনাপোল-খড়িডাঙ্গা সড়কে স্থায়ী জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ যশোরের শার্শায় চোর সন্দেহে আটক ৬, আদালতে সোপর্দ প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারে বড় শিল্প গড়ার আহ্বান সিডনিতে নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম ফ্লাইট, ব্যয় ৫৩০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার চমাশিহা মেডিকেল কলেজ অ্যালামনির পথচলা শুরু, প্রথম কমিটি ঘোষণা নজরুলের আদর্শে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে: প্রতিমন্ত্রী যশোরে শার্শায় দাদার বিরুদ্ধে  নাতিকে ধর্ষণের অভিযোগ বোয়ালখালীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন এমপি এরশাদ উল্লাহ শার্শায় গাঁজা ও বিদেশি মদসহ আটক, কারবারির ৩ বছরের কারাদণ্ড চট্টগ্রামে এক দিনে এক লাখ গাছ রোপণের প্রস্তুতি ডিসি জাহিদের

যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে সমালোচনামূলক পোস্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ ফ্রান্সের

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একটি ভোটকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে ফ্রান্সের জাতিসংঘ মিশন। ফরাসি মিশনের এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে ফ্রান্সের জাতিসংঘ মিশন জানায়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাম্প্রতিক একটি ভোটে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন ছিল। তবে এই মতপার্থক্য কোনোভাবেই মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে দুই দেশের মৌলিক অবস্থানের পার্থক্য নির্দেশ করে না।

মিশনটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, একটি নির্দিষ্ট ভোট নিয়ে দুই দেশের প্রকাশ্য মতপার্থক্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংলাপ অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নয়। একই সঙ্গে দুই দেশের দীর্ঘদিনের মিত্রতা এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য যৌথভাবে কাজ করার সক্ষমতাও এতে প্রভাবিত হবে না।

এর আগে ফ্রান্সের জাতিসংঘ মিশনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার বিষয়ে অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। ওই পোস্টে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র একসময় মানবাধিকারের ক্ষেত্রে আলোকবর্তিকা হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন আর সেই অবস্থানে নেই। পরবর্তীতে ওই বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ফরাসি মিশন।

ফ্রান্সের এ বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, তারা ফ্রান্সের বিবৃতিটি লক্ষ্য করেছেন এবং এর জন্য কৃতজ্ঞ। দুই দেশের অভিন্ন মূল্যবোধ ও স্বার্থ এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

এদিকে, এ বিরোধের প্রভাব পড়েছে ফ্রান্সের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত নিয়োগের প্রক্রিয়াতেও। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর মনোনীত অরেলিয়াঁ লেশেভালিয়েরকে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্রান্সের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন এখনো দেওয়া হয়নি। তিনি বর্তমান রাষ্ট্রদূত লরাঁ বিলির স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। লেশেভালিয়ের বর্তমানে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারোর প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ২৪ জুলাই মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও ছিল। ওই ভোটের পরই ফরাসি মিশনের পক্ষ থেকে মার্কিন অবস্থান নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করা হয়েছিল। রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া ও নিকারাগুয়াসহ আরও কয়েকটি দেশও প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেয়।

ফরাসি মিশনের সাম্প্রতিক দুঃখ প্রকাশের মধ্য দিয়ে দুই মিত্র দেশের মধ্যে ওই প্রকাশ্য মতবিরোধের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

বেনাপোল-খড়িডাঙ্গা সড়কে স্থায়ী জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে সমালোচনামূলক পোস্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ ফ্রান্সের

Update Time : ০৩:০২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একটি ভোটকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে ফ্রান্সের জাতিসংঘ মিশন। ফরাসি মিশনের এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে ফ্রান্সের জাতিসংঘ মিশন জানায়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাম্প্রতিক একটি ভোটে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন ছিল। তবে এই মতপার্থক্য কোনোভাবেই মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে দুই দেশের মৌলিক অবস্থানের পার্থক্য নির্দেশ করে না।

মিশনটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, একটি নির্দিষ্ট ভোট নিয়ে দুই দেশের প্রকাশ্য মতপার্থক্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংলাপ অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নয়। একই সঙ্গে দুই দেশের দীর্ঘদিনের মিত্রতা এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য যৌথভাবে কাজ করার সক্ষমতাও এতে প্রভাবিত হবে না।

এর আগে ফ্রান্সের জাতিসংঘ মিশনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার বিষয়ে অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। ওই পোস্টে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র একসময় মানবাধিকারের ক্ষেত্রে আলোকবর্তিকা হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন আর সেই অবস্থানে নেই। পরবর্তীতে ওই বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ফরাসি মিশন।

ফ্রান্সের এ বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, তারা ফ্রান্সের বিবৃতিটি লক্ষ্য করেছেন এবং এর জন্য কৃতজ্ঞ। দুই দেশের অভিন্ন মূল্যবোধ ও স্বার্থ এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

এদিকে, এ বিরোধের প্রভাব পড়েছে ফ্রান্সের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত নিয়োগের প্রক্রিয়াতেও। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর মনোনীত অরেলিয়াঁ লেশেভালিয়েরকে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্রান্সের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন এখনো দেওয়া হয়নি। তিনি বর্তমান রাষ্ট্রদূত লরাঁ বিলির স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। লেশেভালিয়ের বর্তমানে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারোর প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ২৪ জুলাই মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও ছিল। ওই ভোটের পরই ফরাসি মিশনের পক্ষ থেকে মার্কিন অবস্থান নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করা হয়েছিল। রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া ও নিকারাগুয়াসহ আরও কয়েকটি দেশও প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেয়।

ফরাসি মিশনের সাম্প্রতিক দুঃখ প্রকাশের মধ্য দিয়ে দুই মিত্র দেশের মধ্যে ওই প্রকাশ্য মতবিরোধের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।