ইয়েমেনের তাইজ এলাকায় হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে তীব্র সংঘর্ষে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৮০ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। উভয় পক্ষের সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
ইরান-সমর্থিত হুথিরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করার পর থেকেই তাইজের বিভিন্ন এলাকায় লড়াই চলছে। সংঘর্ষের কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা, যেখান থেকে সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়া উপকূলীয় অঞ্চল দেখা যায়।
হুথিদের সামরিক সূত্র জানিয়েছে, সরকারি বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে তাদের পক্ষের অন্তত ৫৫ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইয়েমেন সরকারের সূত্রের দাবি, তাদের ২৬ সেনা নিহত হয়েছেন।
লোহিত সাগরের প্রবেশপথ ঘিরে উদ্বেগ
ইয়েমেনের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালি ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের আশপাশের নিয়ন্ত্রণকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়।
হুথিরা জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি বাহিনী ৯৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে। তাদের হিসাবে, নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর সৌদি বিমান হামলার সংখ্যা ১,৩৫০ ছাড়িয়েছে। এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ অস্ত্র সীমান্তবর্তী নাজরান শহরের একটি স্কুলে আঘাত করেছে। এতে স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
তাইজের নিয়ন্ত্রণ এখনো সরকারের হাতে
হুথিরা ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করলেও তাইজ শহরের দখল নিতে পারেনি। রাজধানী সানা ও বন্দরনগরী এডেনের পর তাইজ দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর।
সরকারি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার হুথিরা তাইজের সরকারি নিয়ন্ত্রিত এলাকার সঙ্গে এডেনের যোগাযোগকারী একটি সেতু ধ্বংস করেছে। এর ফলে সরকারি বাহিনীর যোগাযোগ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ
তাইজের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইয়েমেনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ। তিনি সংঘাতরত পক্ষগুলোকে বেসামরিক মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে যুদ্ধকবলিত মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা নিরাপদ ও বাধাহীনভাবে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
এদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ইয়েমেনে খাদ্যসংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ ন্যূনতম খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।
২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও মানবিক সংকটে রয়েছে। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর সহিংসতা কিছুটা কমলেও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে আবারও সংঘাত তীব্র হয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ইয়েমেনের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

















