বাংলাদেশে বর্ষাকাল ঘিরে ডেঙ্গু সংক্রমণ আবারও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টিপাত, উষ্ণ আবহাওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বেড়ে যাওয়ায় আগামী কয়েক সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আগের মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, কার্যকর মশক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার না হলে জুলাই ও আগস্টে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণও জরুরি। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন, ফুলের টব, টায়ার ও অন্যান্য পাত্রে তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে হঠাৎ উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ত্বকে র্যাশ। তবে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তক্ষরণ, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা নিলে জটিলতার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত মশারি ব্যবহার, মশা নিরোধক ব্যবহার, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের প্রস্তুতি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক 


















