বাংলাদেশে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ অর্থনৈতিক কারণে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাদ্য কিনতে পারছেন না। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক খাদ্য ও পুষ্টিবিষয়ক বৈশ্বিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেশের ৩৮.৬ শতাংশ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য সংগ্রহ করা আর্থিকভাবে কঠিন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও খাদ্যের উচ্চ মূল্য এবং অনেক পরিবারের সীমিত আয়ের কারণে পুষ্টিকর খাদ্য এখনও সবার নাগালের মধ্যে আসেনি। ফলে অনেক মানুষ পর্যাপ্ত পুষ্টির পরিবর্তে তুলনামূলক কম দামের খাবারের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্য বলতে এমন খাদ্যকে বোঝায় যা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালরি, প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। নিয়মিত এসব খাদ্য গ্রহণ সম্ভব না হলে অপুষ্টি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা হ্রাস, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য, খাদ্য মূল্যস্ফীতি, আয়ের বৈষম্য এবং ক্রয়ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এ সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে গিয়ে পুষ্টিকর খাদ্যের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত কম খরচের খাদ্য বেছে নিতে বাধ্য হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাজার তদারকি জোরদার এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও কার্যকর করা জরুরি। একই সঙ্গে পুষ্টি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ।
জাতিসংঘের এই মূল্যায়ন বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা, অপুষ্টি এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যের প্রাপ্যতা নিয়ে কাজ করা নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তিক নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সবার জন্য পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: জাতিসংঘের The State of Food Security and Nutrition in the World (SOFI) ২০২৫ প্রতিবেদন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

















