জনস্বার্থ রক্ষা, কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে সারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা, বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় নেত্রকোণার বিভিন্ন উপজেলায় দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
অভিযানে সার বিক্রিতে অনিয়ম ও সড়ক দখলের অভিযোগে পাঁচটি মামলায় মোট ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। একই সঙ্গে দুর্গাপুর উপজেলায় সোমেশ্বরী নদীর তীরবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় এক একর সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান ও মনিটরিং পরিচালিত হয়।
নেত্রকোণা সদর উপজেলায় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির দায়ে মেসার্স ফকির ব্রাদার্সকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিজা খাতুন এ দণ্ড দেন। অভিযানে সারের মজুদের সঙ্গে হিসাবের অসামঞ্জস্য এবং ক্রেতাকে বিক্রয় রশিদ না দেওয়ার বিষয়টিও ধরা পড়ে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছে ব্যাখ্যা নেওয়ার জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরে সদর পৌর এলাকায় সড়ক দখল করে স্থাপিত অবৈধ ভাসমান দোকানের বিরুদ্ধে অভিযান চালান এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাহাবুদ্দিন। এ সময় দুটি মামলায় মোট ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।
কেন্দুয়া পৌরসভায় ডিলারশিপ লাইসেন্স ছাড়াই সার বিক্রি এবং অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ার অভিযোগে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর আওতায় এক ব্যক্তিকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী।
মোহনগঞ্জ উপজেলায় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে রাজন এন্টারপ্রাইজকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন এ অভিযান পরিচালনা করেন। প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্টারে সারের হিসাবের অসঙ্গতি এবং ক্যাশ মেমোতে ওভাররাইটিংয়ের বিষয়টি পাওয়া যায়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা নেওয়ার জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এদিকে দুর্গাপুর পৌর এলাকার সোমেশ্বরী নদীর তীরবর্তী তেরীবাজার ঘাটে বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় এক একর সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে নদীর তীরে অবৈধভাবে নির্মিত ১০টি টিনশেড স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, কৃষকদের স্বার্থে সারের অনিয়ম বন্ধ, বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল কোর্ট ও নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
নেত্রকোনা প্রতিনিধি 

















