ঢাকা ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ধর্ষণ-খুনের রাজ্যে পরিণত হয়েছে দেশ ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদের কবলে ভারতেরই সাধারণ হিন্দু গরু খামারিরা! দেশে চলছে চরম সংকট, অথচ দেশীয় সংবাদপত্রগুলো পড়ে আছে আফগান-পাকিস্তান নিয়ে যশোরে প্রথম ধাপে ফ্যামেলি কার্ডের টাকা পেলেন ২০৪২ উপকারভোগী দেশের সাত এলাকার নদীবন্দর সমূহে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত বেনাপোলে ডিম বিক্রেতার মরদেহ উদ্ধার শার্শার বেলতলা বাজারে অপরিপক্ক হিমসাগরের ছড়াছড়ি বেনাপোল বড়আঁচড়ায়  ফেনসিডিলের মামলায় মাদক ব্যবসায়ী হৃদয়ের ১০ বছর কারাদণ্ড ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলো দুই নারী শার্শায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৭ পরোয়ানাভুক্ত আসামী গ্রেফতার
বিচারহীনতা যেন সংস্কৃতি!

ধর্ষণ-খুনের রাজ্যে পরিণত হয়েছে দেশ

দেশজুড়ে যেন এক ভয়ংকর অনিশ্চয়তা। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ধর্ষণ, খুন, চাঁদাবাজি, ঘুষ, ছিনতাই কিংবা ডাকাতির খবর প্রকাশ পাচ্ছে। সাধারণ মানুষ আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘর থেকে বের হওয়া থেকে শুরু করে রাতে বাসায় ফেরা—সবকিছুতেই কাজ করছে আতঙ্ক। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বহু ঘটনার পরও দৃশ্যমান বিচার না হওয়ায় মানুষের মাঝে তৈরি হয়েছে চরম হতাশা ও ক্ষোভ।

 

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ ও চাঁদাবাজির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে হত্যা মামলার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়েছে।

 

অন্যদিকে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সারাদেশে শত শত হত্যা ও ধর্ষণ মামলা দায়ের হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—মামলা হলেও বিচার কতটা হচ্ছে? অপরাধীরা কত দ্রুত শাস্তি পাচ্ছে?

 

দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী চক্রের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে। চাঁদা না দিলে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করছেন ব্যবসায়ীরা। কোথাও টেন্ডারবাজি, কোথাও ভূমিদস্যুতা, আবার কোথাও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছেই। সাধারণ মানুষ অনেক সময় ভয়ে মুখ খুলতেও সাহস পান না।
শুধু তাই নয়, ঘুষ যেন এখন অনেক প্রতিষ্ঠানে অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। সরকারি অফিসে সাধারণ সেবা পেতেও মানুষকে ভোগান্তি ও দুর্নীতির শিকার হতে হচ্ছে। এতে জনগণের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।

সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের বিচারহীনতা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। যখন অপরাধ করে সহজেই পার পাওয়া যায়, তখন অন্যরাও অপরাধে উৎসাহিত হয়। ফলে সমাজে তৈরি হয় ভয় ও অস্থিরতার সংস্কৃতি।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র অভিযান চালিয়ে অপরাধ দমন সম্ভব নয়; প্রয়োজন দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হলে অপরাধের এই ভয়াবহ চক্র থেকে দেশকে বের করে আনা কঠিন হবে।
আজ দেশের মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। তারা এমন একটি রাষ্ট্র চায়, যেখানে ধর্ষক, খুনি, দুর্নীতিবাজ কিংবা চাঁদাবাজদের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধই হবে বিচারের একমাত্র ভিত্তি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

ধর্ষণ-খুনের রাজ্যে পরিণত হয়েছে দেশ

বিচারহীনতা যেন সংস্কৃতি!

ধর্ষণ-খুনের রাজ্যে পরিণত হয়েছে দেশ

Update Time : ০৬:৪০:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

দেশজুড়ে যেন এক ভয়ংকর অনিশ্চয়তা। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ধর্ষণ, খুন, চাঁদাবাজি, ঘুষ, ছিনতাই কিংবা ডাকাতির খবর প্রকাশ পাচ্ছে। সাধারণ মানুষ আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘর থেকে বের হওয়া থেকে শুরু করে রাতে বাসায় ফেরা—সবকিছুতেই কাজ করছে আতঙ্ক। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বহু ঘটনার পরও দৃশ্যমান বিচার না হওয়ায় মানুষের মাঝে তৈরি হয়েছে চরম হতাশা ও ক্ষোভ।

 

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ ও চাঁদাবাজির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে হত্যা মামলার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়েছে।

 

অন্যদিকে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সারাদেশে শত শত হত্যা ও ধর্ষণ মামলা দায়ের হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—মামলা হলেও বিচার কতটা হচ্ছে? অপরাধীরা কত দ্রুত শাস্তি পাচ্ছে?

 

দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী চক্রের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে। চাঁদা না দিলে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করছেন ব্যবসায়ীরা। কোথাও টেন্ডারবাজি, কোথাও ভূমিদস্যুতা, আবার কোথাও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছেই। সাধারণ মানুষ অনেক সময় ভয়ে মুখ খুলতেও সাহস পান না।
শুধু তাই নয়, ঘুষ যেন এখন অনেক প্রতিষ্ঠানে অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। সরকারি অফিসে সাধারণ সেবা পেতেও মানুষকে ভোগান্তি ও দুর্নীতির শিকার হতে হচ্ছে। এতে জনগণের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।

সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের বিচারহীনতা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। যখন অপরাধ করে সহজেই পার পাওয়া যায়, তখন অন্যরাও অপরাধে উৎসাহিত হয়। ফলে সমাজে তৈরি হয় ভয় ও অস্থিরতার সংস্কৃতি।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র অভিযান চালিয়ে অপরাধ দমন সম্ভব নয়; প্রয়োজন দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হলে অপরাধের এই ভয়াবহ চক্র থেকে দেশকে বের করে আনা কঠিন হবে।
আজ দেশের মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। তারা এমন একটি রাষ্ট্র চায়, যেখানে ধর্ষক, খুনি, দুর্নীতিবাজ কিংবা চাঁদাবাজদের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধই হবে বিচারের একমাত্র ভিত্তি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।