ঢাকা ০১:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়লেন তানজিদ হাসান, গড়লেন নতুন কীর্তি অন্য প্রতিষ্ঠানের প্যাকেটে জৈব সার বাজারজাত, জামান এগ্রো ফার্মকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা লালমনিরহাটকে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় শ্রীবরদী সীমান্তে ১৮ লাখ টাকার ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ খেলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে সরকার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বাঘারপাড়ায় পুকুরে ডুবে দুই বোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু ভোলাহাটে পানিভর্তি গর্তে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু বাংলাদেশ-কসোভো বাণিজ্য বাড়াতে এফটিএ নিয়ে আলোচনা ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে ইউপি সদস্য, আবেদনে গৃহিণী; নীতিমালা জেনে ব্যবস্থা নেবেন ইউএনও

ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে ইউপি সদস্য, আবেদনে গৃহিণী; নীতিমালা জেনে ব্যবস্থা নেবেন ইউএনও

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রেহানা খাতুনকে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের কাজে সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতনভুক্ত ব্যক্তিদের অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হলেও একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কীভাবে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

সরকারের অঙ্গীকার অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের জন্য সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের আবেদন ও পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর জানা গেছে, পাইকেরছড়া ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রেহানা খাতুন ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে একজন জনপ্রতিনিধি একই সঙ্গে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো বিধিনিষেধ রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।

 

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলীয়করণের মাধ্যমে অনেককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে সমালোচনা চলছে। একই সঙ্গে অন্যান্য উপজেলায় মোবাইল নম্বরসহ নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হলেও ভূরুঙ্গামারীতে মোবাইল নম্বর ছাড়া ফলাফল প্রকাশ করায় প্রশ্ন উঠেছে।

 

সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি নিয়ে জনমনে যে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে, তার জবাব দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত নিয়োগ প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার শর্ত স্পষ্ট করা। প্রয়োজনে বিষয়টি তদন্ত করে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

রেহানা খাতুন জানান, তিনি সমাজসেবা অফিসে কাজের জন্য গেলে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের বিষয়ে জানতে পারেন। পরে বাইরে একটি কম্পিউটার দোকান থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে জমা দেন এবং পেশা হিসেবে গৃহিণী উল্লেখ করেন।

 

তিনি জানান, পরীক্ষার মেসেজ পেয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষায় চারটি প্রশ্ন করা হলে তিনি সঠিক উত্তর দেন। আমাকে নিয়ে লেখালিখি হয়েছে জানতে পেরে আজ ১৪ অক্টোবর রেজাল্ট দেখে আমার নাম দেখতে পাই। তিনি বলেন, ইউপি সদস্য হিসেবে তিনি ৩ হাজার ৫০০ টাকা সম্মানী পান। তার স্বামী আবু সাঈদ অসুস্থ এবং তার চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হয়।

 

তাকে ঘিরে সমালোচনার বিষয়ে রেহানা খাতুন বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে তিনি সরকারকে সহযোগিতা করতেই পারেন। তবে আইন অনুযায়ী যদি এটি সঠিক না হয়, তাহলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হলে তার কোনো সমস্যা নেই।

 

নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ শামছুজ্জামান বলেন, আবেদনে যদি ইউপি সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হতো, তাহলে বিষয়টি সহজ হতো। এ বিষয়ে সভাপতি ও ইউএনওর সঙ্গে কথা না বলে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।

 

নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ বলেন, যারা এ কার্যক্রমের আওতায় কাজ করতে পারবেন না, তিনি যদি নীতিমালার সেই শ্রেণির মধ্যে পড়ে থাকেন, তাহলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলীয় ব্যক্তি বা সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ বিষয়ে বলেন, সঠিকভাবে পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

 

অন্যান্য উপজেলায় মোবাইল নম্বরসহ ফলাফল প্রকাশ করা হলেও ভূরুঙ্গামারীতে না হওয়া বিষয়ে বলেন, একেকজন একেক ফরম্যাটে ফলাফল প্রকাশ করেছেন। তবে মোবাইল নম্বর ছাড়া প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

 

নীতিমালা ও বাস্তবতায় দাবি কী?

 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা এবং উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের শুমারিকালীন তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য নিরপেক্ষ ও খণ্ডকালীন স্বেচ্ছাসেবক বা প্যানেলভুক্ত ব্যক্তিদের দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ রয়েছে।

 

নীতিমালা অনুযায়ী জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব হলো তথ্য সংগ্রহ শেষে স্থানীয় পর্যায়ে তালিকা যাচাই ও তদারকি করা। তবে সরাসরি তথ্য সংগ্রহকারী বা এনুমারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

 

তাদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বিধিমালা লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করা প্রয়োজন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু

ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে ইউপি সদস্য, আবেদনে গৃহিণী; নীতিমালা জেনে ব্যবস্থা নেবেন ইউএনও

Update Time : ০৫:৪৭:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রেহানা খাতুনকে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের কাজে সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতনভুক্ত ব্যক্তিদের অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হলেও একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কীভাবে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

সরকারের অঙ্গীকার অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের জন্য সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের আবেদন ও পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর জানা গেছে, পাইকেরছড়া ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রেহানা খাতুন ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে একজন জনপ্রতিনিধি একই সঙ্গে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো বিধিনিষেধ রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।

 

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলীয়করণের মাধ্যমে অনেককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে সমালোচনা চলছে। একই সঙ্গে অন্যান্য উপজেলায় মোবাইল নম্বরসহ নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হলেও ভূরুঙ্গামারীতে মোবাইল নম্বর ছাড়া ফলাফল প্রকাশ করায় প্রশ্ন উঠেছে।

 

সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি নিয়ে জনমনে যে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে, তার জবাব দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত নিয়োগ প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার শর্ত স্পষ্ট করা। প্রয়োজনে বিষয়টি তদন্ত করে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

রেহানা খাতুন জানান, তিনি সমাজসেবা অফিসে কাজের জন্য গেলে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের বিষয়ে জানতে পারেন। পরে বাইরে একটি কম্পিউটার দোকান থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে জমা দেন এবং পেশা হিসেবে গৃহিণী উল্লেখ করেন।

 

তিনি জানান, পরীক্ষার মেসেজ পেয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষায় চারটি প্রশ্ন করা হলে তিনি সঠিক উত্তর দেন। আমাকে নিয়ে লেখালিখি হয়েছে জানতে পেরে আজ ১৪ অক্টোবর রেজাল্ট দেখে আমার নাম দেখতে পাই। তিনি বলেন, ইউপি সদস্য হিসেবে তিনি ৩ হাজার ৫০০ টাকা সম্মানী পান। তার স্বামী আবু সাঈদ অসুস্থ এবং তার চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হয়।

 

তাকে ঘিরে সমালোচনার বিষয়ে রেহানা খাতুন বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে তিনি সরকারকে সহযোগিতা করতেই পারেন। তবে আইন অনুযায়ী যদি এটি সঠিক না হয়, তাহলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হলে তার কোনো সমস্যা নেই।

 

নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ শামছুজ্জামান বলেন, আবেদনে যদি ইউপি সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হতো, তাহলে বিষয়টি সহজ হতো। এ বিষয়ে সভাপতি ও ইউএনওর সঙ্গে কথা না বলে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।

 

নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ বলেন, যারা এ কার্যক্রমের আওতায় কাজ করতে পারবেন না, তিনি যদি নীতিমালার সেই শ্রেণির মধ্যে পড়ে থাকেন, তাহলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলীয় ব্যক্তি বা সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ বিষয়ে বলেন, সঠিকভাবে পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

 

অন্যান্য উপজেলায় মোবাইল নম্বরসহ ফলাফল প্রকাশ করা হলেও ভূরুঙ্গামারীতে না হওয়া বিষয়ে বলেন, একেকজন একেক ফরম্যাটে ফলাফল প্রকাশ করেছেন। তবে মোবাইল নম্বর ছাড়া প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

 

নীতিমালা ও বাস্তবতায় দাবি কী?

 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা এবং উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের শুমারিকালীন তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য নিরপেক্ষ ও খণ্ডকালীন স্বেচ্ছাসেবক বা প্যানেলভুক্ত ব্যক্তিদের দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ রয়েছে।

 

নীতিমালা অনুযায়ী জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব হলো তথ্য সংগ্রহ শেষে স্থানীয় পর্যায়ে তালিকা যাচাই ও তদারকি করা। তবে সরাসরি তথ্য সংগ্রহকারী বা এনুমারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

 

তাদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বিধিমালা লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করা প্রয়োজন।