নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার, জাতীয় নীতি এবং তৃণমূল পর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে বিদ্যমান ঘাটতি দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিতে নতুন সরকারি উদ্যোগ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এ আহ্বান জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, বিদেশে অভিবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দেশের ভেতর থেকেই শুরু করতে হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার, জাতীয় নীতি এবং অভিবাসন প্রত্যাশীদের বাস্তবতার মধ্যে আরও নিবিড় সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা জোরদারে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর কথাও বলেন।
নিজ নির্বাচনী এলাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী অনিয়মিত অভিবাসন, মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়োগ জালিয়াতির নতুন ধরন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক অভিবাসীবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং মাঠপর্যায়ে সহজলভ্য সেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন উদ্যোগটির প্রশংসা করেন এবং নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন উৎসাহিত করতে মাঠপর্যায়ে আরও সক্রিয় সম্পৃক্ততার আহ্বান জানান।
অভিবাসনপ্রবণ ১৪ জেলার জেলা প্রশাসকরা সভায় অংশ নিয়ে অভিবাসনের প্রবণতা, দক্ষতার ঘাটতি, নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনিয়ম, অনিয়মিত অভিবাসন এবং অভিবাসীদের সুরক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।
আলোচনায় তৃণমূলের বাস্তবতা জাতীয় নীতিনির্ধারণ ও কূটনৈতিক তৎপরতায় আরও কার্যকরভাবে প্রতিফলিত করতে সরকারি ও সামাজিক পর্যায়ে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো থেকে পাওয়া শ্রমবাজারের চাহিদা ও নিয়মিত অভিবাসনের নতুন সুযোগের তথ্য জেলা প্রশাসকদের জানানো হয়, যাতে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
সভায় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, ঢাকা, নোয়াখালী, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও সুনামগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসকরা অংশ নেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















