ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ঢাকায় ভুটানের রাজাকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের উষ্ণ অভ্যর্থনা দেশে সারের সংকট নেই, মজুত ১৩ লাখ ৬৫ হাজার টন: তথ্য উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ পাটকেলঘাটায় বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল পথচারীর ভূঞাপুরে যমুনা থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, ৭ জনকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা সাঘাটায় ১৬টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস ফ্রান্সে টর্নেডোর তাণ্ডব, আহত ৪১; ক্ষতিগ্রস্ত শত শত বাড়িঘর ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫০১, উদ্ধার অস্ত্র ও বিপুল মাদক তিন দিন সাগরে ভাসছিলেন ১৬ জেলে, নৌবাহিনীর অভিযানে মিলল নিরাপদ আশ্রয় বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম চর্চাকারীদের সামাজিক বয়কটের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

রোহিঙ্গা সংকট বৈশ্বিক এজেন্ডায় রাখার অঙ্গীকার ১৬ কূটনৈতিক মিশনের

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রবেশের নবম বার্ষিকীতে সংকটটি বৈশ্বিক এজেন্ডায় ধরে রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ঢাকায় নিযুক্ত ১৬টি কূটনৈতিক মিশন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও আন্তর্জাতিক সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে তারা।

যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও জাপানসহ ১৬টি মিশনের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংকট দশম বছরে প্রবেশ করায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যাতে বিশ্বের মনোযোগ থেকে হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিবৃতিতে মিশনগুলো জানায়, রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো করা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন ধরে রাখতে বাংলাদেশ ও অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে তারা কাজ করে যাবে।

প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ উল্লেখ করে বিবৃতিতে তাদের সাহস, স্থিতিশীলতা ও মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রত্যাবাসনের পরিবেশ এখনো অনুকূল নয়

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে কূটনৈতিক মিশনগুলো। তবে রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত নয় বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, রাখাইনজুড়ে সংঘাত বাড়ছে এবং মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তাও তীব্র হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতা, বেসামরিক অবকাঠামোয় বিমান হামলা এবং ত্রাণ ও বাণিজ্যের ওপর বিধিনিষেধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এ ধরনের অস্থিরতা বাংলাদেশসহ আশপাশের অঞ্চলে নতুন করে বাস্তুচ্যুতি তৈরি করছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রার কারণে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের আহ্বান

প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে কৌশলগত, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মত দিয়েছে মিশনগুলো। এ জন্য বাস্তুচ্যুতির মূল কারণ ও প্রতিবন্ধকতা দূর করা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা তৈরি এবং মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। মিশনগুলোর মতে, এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি, জীবিকা ও সামাজিক কাঠামো পুনর্গঠনে সহায়ক হতে পারে।

বাংলাদেশে সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি

প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির উপায় খুঁজতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে কূটনৈতিক মিশনগুলো। সেই পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে তারা।

রোহিঙ্গাদের স্বনির্ভরতা বাড়ানো এবং মানবিক সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে স্থানীয় নেতৃত্ব জোরদার এবং বাংলাদেশি ও শরণার্থী-পরিচালিত সংস্থাগুলোর ভূমিকা বাড়ানোর উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে মিশনগুলো।

বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের জীবন ও ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাদের নিজেদের মতামত ও কণ্ঠস্বরকে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব দিতে হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকায় ভুটানের রাজাকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের উষ্ণ অভ্যর্থনা

রোহিঙ্গা সংকট বৈশ্বিক এজেন্ডায় রাখার অঙ্গীকার ১৬ কূটনৈতিক মিশনের

Update Time : ১১:৩৩:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রবেশের নবম বার্ষিকীতে সংকটটি বৈশ্বিক এজেন্ডায় ধরে রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ঢাকায় নিযুক্ত ১৬টি কূটনৈতিক মিশন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও আন্তর্জাতিক সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে তারা।

যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও জাপানসহ ১৬টি মিশনের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংকট দশম বছরে প্রবেশ করায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যাতে বিশ্বের মনোযোগ থেকে হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিবৃতিতে মিশনগুলো জানায়, রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো করা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন ধরে রাখতে বাংলাদেশ ও অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে তারা কাজ করে যাবে।

প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ উল্লেখ করে বিবৃতিতে তাদের সাহস, স্থিতিশীলতা ও মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রত্যাবাসনের পরিবেশ এখনো অনুকূল নয়

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে কূটনৈতিক মিশনগুলো। তবে রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত নয় বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, রাখাইনজুড়ে সংঘাত বাড়ছে এবং মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তাও তীব্র হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতা, বেসামরিক অবকাঠামোয় বিমান হামলা এবং ত্রাণ ও বাণিজ্যের ওপর বিধিনিষেধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এ ধরনের অস্থিরতা বাংলাদেশসহ আশপাশের অঞ্চলে নতুন করে বাস্তুচ্যুতি তৈরি করছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রার কারণে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের আহ্বান

প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে কৌশলগত, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মত দিয়েছে মিশনগুলো। এ জন্য বাস্তুচ্যুতির মূল কারণ ও প্রতিবন্ধকতা দূর করা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা তৈরি এবং মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। মিশনগুলোর মতে, এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি, জীবিকা ও সামাজিক কাঠামো পুনর্গঠনে সহায়ক হতে পারে।

বাংলাদেশে সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি

প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির উপায় খুঁজতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে কূটনৈতিক মিশনগুলো। সেই পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে তারা।

রোহিঙ্গাদের স্বনির্ভরতা বাড়ানো এবং মানবিক সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে স্থানীয় নেতৃত্ব জোরদার এবং বাংলাদেশি ও শরণার্থী-পরিচালিত সংস্থাগুলোর ভূমিকা বাড়ানোর উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে মিশনগুলো।

বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের জীবন ও ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাদের নিজেদের মতামত ও কণ্ঠস্বরকে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব দিতে হবে।