ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ঢাকায় ভুটানের রাজাকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের উষ্ণ অভ্যর্থনা দেশে সারের সংকট নেই, মজুত ১৩ লাখ ৬৫ হাজার টন: তথ্য উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ পাটকেলঘাটায় বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল পথচারীর ভূঞাপুরে যমুনা থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, ৭ জনকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা সাঘাটায় ১৬টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস ফ্রান্সে টর্নেডোর তাণ্ডব, আহত ৪১; ক্ষতিগ্রস্ত শত শত বাড়িঘর ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫০১, উদ্ধার অস্ত্র ও বিপুল মাদক তিন দিন সাগরে ভাসছিলেন ১৬ জেলে, নৌবাহিনীর অভিযানে মিলল নিরাপদ আশ্রয় বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম চর্চাকারীদের সামাজিক বয়কটের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম চর্চাকারীদের সামাজিক বয়কটের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে ফ্যাসিবাদী চিন্তা ও মতাদর্শকে সমর্থন বা প্রচারকারীদের সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আহ্বান জানান।

গণমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো গণমাধ্যম বা ব্যক্তি বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা-চেতনার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদকে সমর্থন, প্রচার বা চর্চা করলে তার বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিবাদ ও বয়কটই হতে পারে কার্যকর প্রতিক্রিয়া।

তিনি বলেন, যারা মুক্ত ও নতুন বাংলাদেশের চেতনায় বিশ্বাস করেন না, তাদের সামাজিকভাবে প্রত্যাখ্যান করাই বড় ধরনের জবাব। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল সমালোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করা একটি মানসিকতার বিষয়। আগের দীর্ঘ সময়ে সমালোচনার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব দেখা গেলেও বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত বা নিয়ন্ত্রণ করার কোনো মানসিকতা নেই।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার পর সরকার দায়িত্ব নিয়েছে কঠিন এক সময়ে। এ অবস্থায় সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরতে গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা প্রয়োজন, যাতে সেগুলো সংশোধন করে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া যায়।

শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। জুলাই আন্দোলনসহ অতীতের বিভিন্ন ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, বিচার নিশ্চিত করতে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট বলেও জানান তিনি।

এদিকে সংবাদপত্রের ভুয়া প্রচারসংখ্যা বন্ধের বিষয়েও মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কম সংখ্যক পত্রিকা ছাপিয়ে কাগজে-কলমে বিপুল সার্কুলেশন দেখানোর অনিয়ম বন্ধে কাজ শুরু হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে—সব ক্ষেত্রেই জনগণের কথা তুলে ধরার সুযোগ থাকা গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত। সরকারি গণমাধ্যমে বিরোধী দলগুলোর খবরও আনুপাতিক হারে প্রচারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সাংবাদিকদের কল্যাণে ট্রাস্ট ফান্ডের অনুদান বাড়ানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি অসুস্থ ও অসচ্ছল সাংবাদিকদের সহায়তায় ইতোমধ্যে এক কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে তথ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান: গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ৬ মাস’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন তথ্যমন্ত্রী।

ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকায় ভুটানের রাজাকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের উষ্ণ অভ্যর্থনা

বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম চর্চাকারীদের সামাজিক বয়কটের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

Update Time : ১১:৪৫:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে ফ্যাসিবাদী চিন্তা ও মতাদর্শকে সমর্থন বা প্রচারকারীদের সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আহ্বান জানান।

গণমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো গণমাধ্যম বা ব্যক্তি বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা-চেতনার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদকে সমর্থন, প্রচার বা চর্চা করলে তার বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিবাদ ও বয়কটই হতে পারে কার্যকর প্রতিক্রিয়া।

তিনি বলেন, যারা মুক্ত ও নতুন বাংলাদেশের চেতনায় বিশ্বাস করেন না, তাদের সামাজিকভাবে প্রত্যাখ্যান করাই বড় ধরনের জবাব। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল সমালোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করা একটি মানসিকতার বিষয়। আগের দীর্ঘ সময়ে সমালোচনার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব দেখা গেলেও বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত বা নিয়ন্ত্রণ করার কোনো মানসিকতা নেই।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার পর সরকার দায়িত্ব নিয়েছে কঠিন এক সময়ে। এ অবস্থায় সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরতে গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা প্রয়োজন, যাতে সেগুলো সংশোধন করে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া যায়।

শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। জুলাই আন্দোলনসহ অতীতের বিভিন্ন ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, বিচার নিশ্চিত করতে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট বলেও জানান তিনি।

এদিকে সংবাদপত্রের ভুয়া প্রচারসংখ্যা বন্ধের বিষয়েও মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কম সংখ্যক পত্রিকা ছাপিয়ে কাগজে-কলমে বিপুল সার্কুলেশন দেখানোর অনিয়ম বন্ধে কাজ শুরু হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে—সব ক্ষেত্রেই জনগণের কথা তুলে ধরার সুযোগ থাকা গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত। সরকারি গণমাধ্যমে বিরোধী দলগুলোর খবরও আনুপাতিক হারে প্রচারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সাংবাদিকদের কল্যাণে ট্রাস্ট ফান্ডের অনুদান বাড়ানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি অসুস্থ ও অসচ্ছল সাংবাদিকদের সহায়তায় ইতোমধ্যে এক কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে তথ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান: গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ৬ মাস’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন তথ্যমন্ত্রী।

ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।