ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
নারী এশিয়া কাপের দশম আসর শুরু কাল, ফাইনালে চোখ বাংলাদেশের বাংলাদেশের টেস্ট জয়কে ‘বিস্ময়কর’ বললেন স্টিভ ওয়াহ এমবাপ্পের হ্যাটট্রিকে রিয়ালের বড় জয়, মরিনহোর বার্নাব্যু প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ড্র: চার পটে ৩৬ দল, পিএসজির সঙ্গে পট-১ এ শীর্ষ ক্লাবগুলো সব নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে ইসিকে রাষ্ট্রপতির আহ্বান নেপালে বন্যা-ভূমিধসে সব ধরনের সহায়তার প্রস্তাব বাংলাদেশের চাঁদপুরে কসাই নুর মোহাম্মদ হত্যা: সুজনের যাবজ্জীবন দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী কুষ্টিয়া সীমান্তে ১২ লাখ টাকার ভারতীয় মাদক উদ্ধার

নিষেধাজ্ঞার পরও অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ছে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার

  • নিউজ ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:১২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৮ Time View

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকলেও শিশু-কিশোরদের মধ্যে এসব প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার আবারও বাড়ছে। অভিভাবকদের জন্য তৈরি নিয়ন্ত্রণ সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান কুস্টোডিওর সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

গত বছরের ডিসেম্বর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। শিশু-কিশোরদের অনলাইন হয়রানি এবং তাদের লক্ষ্য করে তৈরি ক্ষতিকর অ্যালগরিদমের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেওয়াই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার শুরুতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তাদের উপস্থিতি ধীরে ধীরে আবার বাড়তে থাকে।

কুস্টোডিওর তথ্য অনুযায়ী, ১০ থেকে ১২ বছর এবং ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারের হার বাড়ছে। বিশেষ করে টিকটকের ব্যবহার নিষেধাজ্ঞার আগের মাত্রার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ টিকটক ব্যবহার করছে। নিষেধাজ্ঞার আগে এই হার থেকে ব্যবধান খুব বেশি নয়। একইভাবে ১০ থেকে ১২ বছর বয়সীদের মধ্যেও টিকটক ব্যবহারের হার নিষেধাজ্ঞার আগের মাত্রার কাছাকাছি রয়েছে।

কুস্টোডিওর গ্লোবাল অনলাইন সেফটি বিশেষজ্ঞ ইয়াসমিন লন্ডনের ধারণা, কেউ কেউ ভিপিএন ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ করতে পারে। আবার কেউ বয়সসংক্রান্ত তথ্য গোপন করেও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে কি না, সেটিও বিবেচনার বিষয়।

তবে তিনি মনে করেন, এর পেছনে আরও সাধারণ একটি কারণ থাকতে পারে—নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাশিত মাত্রায় কার্যকর না হওয়ায় শিশুরা পুনরায় এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে।

নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকা হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেসেজিং অ্যাপের ব্যবহারও শিশু-কিশোরদের মধ্যে বাড়ছে বলে জানিয়েছে কুস্টোডিও।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, অস্ট্রেলিয়ার শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নাম-পরিচয়বিহীন মাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। কোনো শিশু একটি নির্দিষ্ট অ্যাপে এক মাসে অন্তত একবার টানা পাঁচ মিনিটের বেশি সময় কাটালে তাকে ওই অ্যাপের ব্যবহারকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

এদিকে, নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জুনে প্রকাশিত অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক একদল গবেষকের পর্যালোচনাকৃত গবেষণায় বলা হয়, নিষেধাজ্ঞার কারণে কিশোর-কিশোরীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ব্যাপকভাবে দূরে সরে গেছে—এমন শক্ত প্রমাণ খুব কম।

অস্ট্রেলিয়ার এই উদ্যোগের পর যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ আরও কয়েকটি দেশ শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে।

নিউজিল্যান্ডও এ বিষয়ে নতুন আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নিয়ম ভঙ্গ করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে তাদের বৈশ্বিক আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে বাড়লেও এসব নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

নারী এশিয়া কাপের দশম আসর শুরু কাল, ফাইনালে চোখ বাংলাদেশের

নিষেধাজ্ঞার পরও অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ছে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার

Update Time : ০৩:১২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকলেও শিশু-কিশোরদের মধ্যে এসব প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার আবারও বাড়ছে। অভিভাবকদের জন্য তৈরি নিয়ন্ত্রণ সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান কুস্টোডিওর সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

গত বছরের ডিসেম্বর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। শিশু-কিশোরদের অনলাইন হয়রানি এবং তাদের লক্ষ্য করে তৈরি ক্ষতিকর অ্যালগরিদমের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেওয়াই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার শুরুতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তাদের উপস্থিতি ধীরে ধীরে আবার বাড়তে থাকে।

কুস্টোডিওর তথ্য অনুযায়ী, ১০ থেকে ১২ বছর এবং ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারের হার বাড়ছে। বিশেষ করে টিকটকের ব্যবহার নিষেধাজ্ঞার আগের মাত্রার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ টিকটক ব্যবহার করছে। নিষেধাজ্ঞার আগে এই হার থেকে ব্যবধান খুব বেশি নয়। একইভাবে ১০ থেকে ১২ বছর বয়সীদের মধ্যেও টিকটক ব্যবহারের হার নিষেধাজ্ঞার আগের মাত্রার কাছাকাছি রয়েছে।

কুস্টোডিওর গ্লোবাল অনলাইন সেফটি বিশেষজ্ঞ ইয়াসমিন লন্ডনের ধারণা, কেউ কেউ ভিপিএন ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ করতে পারে। আবার কেউ বয়সসংক্রান্ত তথ্য গোপন করেও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে কি না, সেটিও বিবেচনার বিষয়।

তবে তিনি মনে করেন, এর পেছনে আরও সাধারণ একটি কারণ থাকতে পারে—নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাশিত মাত্রায় কার্যকর না হওয়ায় শিশুরা পুনরায় এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে।

নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকা হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেসেজিং অ্যাপের ব্যবহারও শিশু-কিশোরদের মধ্যে বাড়ছে বলে জানিয়েছে কুস্টোডিও।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, অস্ট্রেলিয়ার শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নাম-পরিচয়বিহীন মাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। কোনো শিশু একটি নির্দিষ্ট অ্যাপে এক মাসে অন্তত একবার টানা পাঁচ মিনিটের বেশি সময় কাটালে তাকে ওই অ্যাপের ব্যবহারকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

এদিকে, নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জুনে প্রকাশিত অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক একদল গবেষকের পর্যালোচনাকৃত গবেষণায় বলা হয়, নিষেধাজ্ঞার কারণে কিশোর-কিশোরীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ব্যাপকভাবে দূরে সরে গেছে—এমন শক্ত প্রমাণ খুব কম।

অস্ট্রেলিয়ার এই উদ্যোগের পর যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ আরও কয়েকটি দেশ শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে।

নিউজিল্যান্ডও এ বিষয়ে নতুন আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নিয়ম ভঙ্গ করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে তাদের বৈশ্বিক আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে বাড়লেও এসব নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।