ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
চার বছরের পথচলার শেষে বিদায়—স্মৃতির পাতায় ৩৯তম ব্যাচ বেনাপোল বন্দর পরিদর্শনে চেয়ারম্যান মানজারুল মান্নান, অনিয়ম-দুর্নীতিতে কঠোর বার্তা নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্যে প্রার্থী-এজেন্টের ব্যাংক হিসাব, ‘নৌকা’ প্রতীক স্থগিত রূপপুর থেকে আগামী মাসেই ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: রুশ রাষ্ট্রদূত যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ, মাদারীপুরে স্বামী গ্রেপ্তার চার দিনের সরকারি সফরে জাপান গেলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সাইবার অপরাধ ঠেকাতে পুলিশের বিশেষ ইউনিট, উচ্চতর প্রশিক্ষণে জোর রাজৈরে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে অনলাইন স্ক্যামিংয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশির ২ দিনের রিমান্ড ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু

জাতীয় কবি নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, নানা আয়োজনে স্মরণ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিদ্রোহ, সাম্য ও মানবতার কবি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন স্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে সমাহিত করা হয়।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কবিকে স্মরণ করে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। নজরুল ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও হামদ-নাতের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।

১৮৯৯ সালের ২৫ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে বেড়ে ওঠা নজরুল পরবর্তী সময়ে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে সৃষ্টি করেন স্বতন্ত্র ধারা।

মাত্র ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল সাহিত্যজীবনে কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও নাটকসহ নানা মাধ্যমে অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি রেখে গেছেন তিনি। তাঁর লেখায় অন্যায়, শোষণ, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ যেমন উঠে এসেছে, তেমনি প্রকাশ পেয়েছে প্রেম, মানবতা ও সাম্যের বার্তা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে বাংলাদেশে আনা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তাঁকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। রাজধানীর ধানমন্ডিতে তাঁর বসবাসের জন্য একটি বাড়িও বরাদ্দ করা হয়।

১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাজী নজরুল ইসলামকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে। ১৯৭৬ সালে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং একই বছর একুশে পদকে ভূষিত হন।

মৃত্যুবার্ষিকীতে নানা কর্মসূচি

জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দুই দিনব্যাপী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজনটির উদ্বোধন হবে। আগামীকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

‘আমারে দেবো না ভুলিতে…’ শিরোনামের এ আয়োজনে নজরুলের জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা ছাড়াও সংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠান থাকবে।

এদিকে নজরুল একাডেমি তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন কবির সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। বাদ জোহর সমাধিসংলগ্ন মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে মিলাদ মাহফিল।

আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৫টায় মগবাজারের বেলালাবাদ কলোনিতে নজরুল একাডেমির ‘কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে’ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ২৯ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টায় একই স্থানে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিন দিনের কর্মসূচি শেষ হবে।

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য কাজী নজরুল ইসলাম আজও বাঙালির চেতনা ও সংগ্রামের অন্যতম অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

চার বছরের পথচলার শেষে বিদায়—স্মৃতির পাতায় ৩৯তম ব্যাচ

জাতীয় কবি নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, নানা আয়োজনে স্মরণ

Update Time : ১১:২৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিদ্রোহ, সাম্য ও মানবতার কবি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন স্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে সমাহিত করা হয়।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কবিকে স্মরণ করে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। নজরুল ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও হামদ-নাতের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।

১৮৯৯ সালের ২৫ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে বেড়ে ওঠা নজরুল পরবর্তী সময়ে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে সৃষ্টি করেন স্বতন্ত্র ধারা।

মাত্র ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল সাহিত্যজীবনে কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও নাটকসহ নানা মাধ্যমে অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি রেখে গেছেন তিনি। তাঁর লেখায় অন্যায়, শোষণ, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ যেমন উঠে এসেছে, তেমনি প্রকাশ পেয়েছে প্রেম, মানবতা ও সাম্যের বার্তা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে বাংলাদেশে আনা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তাঁকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। রাজধানীর ধানমন্ডিতে তাঁর বসবাসের জন্য একটি বাড়িও বরাদ্দ করা হয়।

১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাজী নজরুল ইসলামকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে। ১৯৭৬ সালে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং একই বছর একুশে পদকে ভূষিত হন।

মৃত্যুবার্ষিকীতে নানা কর্মসূচি

জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দুই দিনব্যাপী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজনটির উদ্বোধন হবে। আগামীকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

‘আমারে দেবো না ভুলিতে…’ শিরোনামের এ আয়োজনে নজরুলের জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা ছাড়াও সংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠান থাকবে।

এদিকে নজরুল একাডেমি তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন কবির সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। বাদ জোহর সমাধিসংলগ্ন মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে মিলাদ মাহফিল।

আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৫টায় মগবাজারের বেলালাবাদ কলোনিতে নজরুল একাডেমির ‘কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে’ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ২৯ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টায় একই স্থানে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিন দিনের কর্মসূচি শেষ হবে।

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য কাজী নজরুল ইসলাম আজও বাঙালির চেতনা ও সংগ্রামের অন্যতম অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ছে।