ঢাকা ০৯:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা ও সৌহার্দ্য জোরদারে বিজিবি-বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ে সীমান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামের অপহরণ, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার ভুয়া টিএ বিল, ‘ভগবান ডিউটি’ ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগে আলোচনায় আরএনবি ইন্সপেক্টর সালামত চট্টগ্রামে যুবদল কর্মী হত্যা মামলার প্রধান আসামি জুয়েলসহ গ্রেপ্তার ৩ জৈব সার ব্যবহারে ভর্তুকি দেওয়ার দাবি, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান হত্যা ও মানবপাচার মামলার আসামি মুকিম ঢাকায় গ্রেপ্তার জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস-২০২৬ উদযাপন সন্ত্রাস বিরোধী মামলায় কুড়িগ্রামে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার চট্টগ্রামে ডিবির অভিযানে দেশীয় তৈরি এলজি ও কার্তুজসহ গ্রেপ্তার ১ ঢাবির জগন্নাথ হল থেকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আটক, পুলিশের কাছে হস্তান্তর

সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র-জাপানের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে আগামী সেপ্টেম্বরে যৌথ সামরিক মহড়া চালানোর ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। ‘ফ্রিডম এজ’ নামের এ মহড়া ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অনুষ্ঠিত হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) শুক্রবার এক বিবৃতিতে মহড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এতে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় তিন দেশ নিয়মিতভাবে এ ধরনের প্রতিরক্ষামূলক মহড়া পরিচালনা করে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম ইয়োনহাপের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মহড়ায় সমুদ্রভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, আকাশ প্রতিরক্ষা, আকাশযুদ্ধ, সাবমেরিনবিরোধী অভিযান ও সাইবার প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক কার্যক্রম থাকতে পারে।

২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নেতাদের ক্যাম্প ডেভিড বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে সমঝোতা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুনে প্রথমবারের মতো ‘ফ্রিডম এজ’ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

মার্কিন প্যাসিফিক কমান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের বহুমাত্রিক মহড়া তিন দেশের পারস্পরিক সমন্বয় ও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করবে। এর মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সক্ষমতাও বাড়বে বলে মনে করে ওয়াশিংটন।

তবে এমন সময়ে নতুন মহড়ার ঘোষণা এলো, যখন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ার সময়সীমা ১১ দিন থেকে কমিয়ে পাঁচ দিন করার নির্দেশ দেন।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের সামরিক মহড়া উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের কাছে অপমানজনক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালানোর সময়ই তিনি মহড়ার পরিধি কমানোর বিষয়ে অবস্থান জানান।

এর আগে দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত ‘সাংইয়ং’ নামের আরেকটি যৌথ সামরিক মহড়াও বাতিল করেছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের সংলাপের উদ্যোগে এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। বরং পিয়ংইয়ং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর উদ্যোগ নিয়েও সমালোচনা করেছে।

এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন এবং উত্তর কোরিয়ায় মানবাধিকার পরিস্থিতি নথিভুক্ত করার কর্মসূচিতে অর্থায়নের পরিকল্পনাও প্রত্যাখ্যান করেছে পিয়ংইয়ং।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা ও সৌহার্দ্য জোরদারে বিজিবি-বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ে সীমান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত

সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র-জাপানের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া

Update Time : ১১:২৭:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে আগামী সেপ্টেম্বরে যৌথ সামরিক মহড়া চালানোর ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। ‘ফ্রিডম এজ’ নামের এ মহড়া ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অনুষ্ঠিত হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) শুক্রবার এক বিবৃতিতে মহড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এতে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় তিন দেশ নিয়মিতভাবে এ ধরনের প্রতিরক্ষামূলক মহড়া পরিচালনা করে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম ইয়োনহাপের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মহড়ায় সমুদ্রভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, আকাশ প্রতিরক্ষা, আকাশযুদ্ধ, সাবমেরিনবিরোধী অভিযান ও সাইবার প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক কার্যক্রম থাকতে পারে।

২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নেতাদের ক্যাম্প ডেভিড বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে সমঝোতা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুনে প্রথমবারের মতো ‘ফ্রিডম এজ’ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

মার্কিন প্যাসিফিক কমান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের বহুমাত্রিক মহড়া তিন দেশের পারস্পরিক সমন্বয় ও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করবে। এর মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সক্ষমতাও বাড়বে বলে মনে করে ওয়াশিংটন।

তবে এমন সময়ে নতুন মহড়ার ঘোষণা এলো, যখন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ার সময়সীমা ১১ দিন থেকে কমিয়ে পাঁচ দিন করার নির্দেশ দেন।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের সামরিক মহড়া উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের কাছে অপমানজনক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালানোর সময়ই তিনি মহড়ার পরিধি কমানোর বিষয়ে অবস্থান জানান।

এর আগে দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত ‘সাংইয়ং’ নামের আরেকটি যৌথ সামরিক মহড়াও বাতিল করেছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের সংলাপের উদ্যোগে এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। বরং পিয়ংইয়ং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর উদ্যোগ নিয়েও সমালোচনা করেছে।

এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন এবং উত্তর কোরিয়ায় মানবাধিকার পরিস্থিতি নথিভুক্ত করার কর্মসূচিতে অর্থায়নের পরিকল্পনাও প্রত্যাখ্যান করেছে পিয়ংইয়ং।