ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে আর্থিক যোগাযোগের অভিযোগে তুরস্কের গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংক ও এর কয়েকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার এ পদক্ষেপ নেয় মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংক আইআরজিসির হয়ে কয়েক কোটি ডলারের আর্থিক লেনদেন পরিচালনা ও তা সহজতর করেছে। পাশাপাশি তেহরানকে আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেনে সহায়তা করতে গুরুত্বপূর্ণ ‘করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং’ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
ওয়াশিংটনের দাবি, এ ধরনের আর্থিক অবকাঠামো ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিক পরিসরে অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ পেয়ে থাকে। নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর হবে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর কঠোরতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিতে হবে। ইরানের শাসনব্যবস্থাকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এর আগে বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে চলতি সপ্তাহে একটি এবং পরবর্তী সপ্তাহে আরও একটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তর ক্যারোলাইনার অ্যাশভিলে জি-২০ অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের বৈঠকের ফাঁকে তিনি মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকেও ইরানবিরোধী পদক্ষেপে সমর্থন চেয়েছেন।
সম্প্রতি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ শুরুর ঘোষণা দেন বেসেন্ট। একই সঙ্গে এই প্রচেষ্টায় সহযোগিতা না করা দেশ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠোর পরিণতির সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।
ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত শুরুর পর থেকেই দেশটির ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়ে চলেছে ওয়াশিংটন। সর্বশেষ ব্যাংক নিষেধাজ্ঞাকে সেই বৃহত্তর চাপ প্রয়োগেরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 


















