ঢাকা ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
১০ এয়ারবাস কিনতে চুক্তিতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ পঞ্চগড়ে রিকশাচালক আল আমিন হত্যা মামলায় সাবেক এমপি মুক্তা গ্রেপ্তার জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস আজ এশিয়ার বড় বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি, বহুমুখীকরণের নতুন সম্ভাবনা প্রাথমিক শিক্ষার মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম দেখতে ১৮০ কর্মকর্তাকে পাঠানোর নির্দেশ ভারতে পালানোর সময় সাতক্ষীরায় কলেজছাত্র হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার শার্শায় গাছের সঙ্গে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কা, হেলপার নিহত “ডেঙ্গুতে খাবারই শক্তি: রোগীর খাদ্যতালিকায় যা রাখবেন, যা এড়িয়ে চলবেন” যশোরের শার্শা-বেনাপোলে পাটখড়ির দামে লাভবান কৃষকেরা আন্তর্জাতিক ফায়ার ম্যারাথন-১০২: আজ থেকে শুরু রেজিস্ট্রেশন

মেইল-ইন ভোট সীমিত করার ট্রাম্পের উদ্যোগে সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা

আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এর আগে ডাকযোগে বা মেইল-ইন ভোট সীমিত করার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

সোমবার ৯ সদস্যের সর্বোচ্চ আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে, যেখানে নিম্ন আদালতের দেওয়া একটি আদেশ বাতিলের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। ওই আদেশের মাধ্যমে মেইল-ইন ভোট সীমিত করার বিতর্কিত পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছিল।

আদালতের ছয় রক্ষণশীল বিচারপতির মধ্যে দুজন সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্তের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন। তবে বিচারপতি ব্রেট কাভানাহ সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়ের সঙ্গে একমত হলেও পৃথক মতামতে বলেন, দীর্ঘমেয়াদে ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি আইনগতভাবে বৈধ হতে পারে। তাঁর মতে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন বিধি কার্যকর করার জন্য অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত সময় নেই।

এরই মধ্যে নর্থ ক্যারোলাইনাসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোটারদের কাছে ডাকযোগে ব্যালট পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

চলতি বছরের মার্চে ডাকযোগে ভোটের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়ে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন ট্রাম্প। তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই দাবি করেন, মেইল-ইন ভোটে জালিয়াতির ঝুঁকি রয়েছে।

আদেশ জারির পরপরই এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একাধিক মামলা হয়। ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়।

মামলাকারীদের যুক্তি, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যগুলোর ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে। ফলে এ ধরনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের একতরফা হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত।

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে যোগ্য ভোটারদের একটি তালিকা তৈরির কথা বলা হয়। ওই তালিকায় থাকা ভোটারদের কাছেই শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ (ইউএসপিএস) ব্যালট পৌঁছে দিতে পারবে—এমন বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছিল।

‘ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের বড় জয়’

সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)। সংগঠনটি রায়কে ভোটাধিকার, নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এসিএলইউর ভোটাধিকার প্রকল্পের পরিচালক সোফিয়া লিন লেকিন অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন বারবার প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা পরীক্ষা করছে। নির্বাচনী বিধি রাজনৈতিক এজেন্ডার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তা উপেক্ষা করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব প্রেসিডেন্টের নয় এবং কোন ভোট গণনা হবে, সেটিও ডাক বিভাগ নির্ধারণ করে না।

অঙ্গরাজ্যগুলোর কয়েকজন কর্মকর্তা আগেই সতর্ক করেছিলেন, মেইল-ইন ভোট নিয়ে আইনি অবস্থান পরিষ্কার না হলে নির্বাচনের কয়েক মাস আগে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের এক তথ্য ফাঁসকারী কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, মেইল-ইন ভোট সংক্রান্ত ব্যবস্থাগুলো অগোছালোভাবে এবং তাড়াহুড়ো করে প্রস্তুত করা হয়েছে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক ভোটার সময়মতো ব্যালট না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ডাকযোগে ভোটের সমালোচনা করে আসছেন। তবে বিভিন্ন সময় তিনি নিজেও এই পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছেন। চলতি বছরের শুরুতে ফ্লোরিডার রিপাবলিকান পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনেও তিনি ডাকযোগে ভোট প্রদান করেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

১০ এয়ারবাস কিনতে চুক্তিতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ

মেইল-ইন ভোট সীমিত করার ট্রাম্পের উদ্যোগে সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা

Update Time : ১১:২৬:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এর আগে ডাকযোগে বা মেইল-ইন ভোট সীমিত করার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

সোমবার ৯ সদস্যের সর্বোচ্চ আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে, যেখানে নিম্ন আদালতের দেওয়া একটি আদেশ বাতিলের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। ওই আদেশের মাধ্যমে মেইল-ইন ভোট সীমিত করার বিতর্কিত পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছিল।

আদালতের ছয় রক্ষণশীল বিচারপতির মধ্যে দুজন সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্তের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন। তবে বিচারপতি ব্রেট কাভানাহ সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়ের সঙ্গে একমত হলেও পৃথক মতামতে বলেন, দীর্ঘমেয়াদে ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি আইনগতভাবে বৈধ হতে পারে। তাঁর মতে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন বিধি কার্যকর করার জন্য অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত সময় নেই।

এরই মধ্যে নর্থ ক্যারোলাইনাসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোটারদের কাছে ডাকযোগে ব্যালট পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

চলতি বছরের মার্চে ডাকযোগে ভোটের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়ে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন ট্রাম্প। তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই দাবি করেন, মেইল-ইন ভোটে জালিয়াতির ঝুঁকি রয়েছে।

আদেশ জারির পরপরই এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একাধিক মামলা হয়। ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়।

মামলাকারীদের যুক্তি, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যগুলোর ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে। ফলে এ ধরনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের একতরফা হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত।

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে যোগ্য ভোটারদের একটি তালিকা তৈরির কথা বলা হয়। ওই তালিকায় থাকা ভোটারদের কাছেই শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ (ইউএসপিএস) ব্যালট পৌঁছে দিতে পারবে—এমন বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছিল।

‘ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের বড় জয়’

সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)। সংগঠনটি রায়কে ভোটাধিকার, নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এসিএলইউর ভোটাধিকার প্রকল্পের পরিচালক সোফিয়া লিন লেকিন অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন বারবার প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা পরীক্ষা করছে। নির্বাচনী বিধি রাজনৈতিক এজেন্ডার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তা উপেক্ষা করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব প্রেসিডেন্টের নয় এবং কোন ভোট গণনা হবে, সেটিও ডাক বিভাগ নির্ধারণ করে না।

অঙ্গরাজ্যগুলোর কয়েকজন কর্মকর্তা আগেই সতর্ক করেছিলেন, মেইল-ইন ভোট নিয়ে আইনি অবস্থান পরিষ্কার না হলে নির্বাচনের কয়েক মাস আগে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের এক তথ্য ফাঁসকারী কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, মেইল-ইন ভোট সংক্রান্ত ব্যবস্থাগুলো অগোছালোভাবে এবং তাড়াহুড়ো করে প্রস্তুত করা হয়েছে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক ভোটার সময়মতো ব্যালট না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ডাকযোগে ভোটের সমালোচনা করে আসছেন। তবে বিভিন্ন সময় তিনি নিজেও এই পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছেন। চলতি বছরের শুরুতে ফ্লোরিডার রিপাবলিকান পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনেও তিনি ডাকযোগে ভোট প্রদান করেন।