ঢাকা ১১:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, প্রায় ১০ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ পটুয়াখালীতে নকল বিদেশি সিগারেটসহ নিষিদ্ধ পণ্য জব্দ নেপালে বন্যায় টানেলে আটকা শ্রমিকদের উদ্ধারে বাধা, বাড়ছে উৎকণ্ঠা আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন মো. হাবিবুল গনি তিব্বতে পাহাড়ি ঢল-ভূমিধসে নিহত ১৬, নিখোঁজ ৫৪৬ ভেনেজুয়েলার তেল খাতে মার্কিন সুযোগ: সংশয়ের পাশাপাশি অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর আশাও যশোরের শার্শায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার সালমান শাহ হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়ায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী নো কোয়াং চোল বরখাস্ত, সামরিক নেতৃত্বে বড় রদবদল বাগেরহাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ছাত্রদলের মশক নিধন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম

সৌদিতে কারখানায় আগুন, নিহত ১৬ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার প্রস্তুতি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের শিফা থানার মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে প্রথমে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেও পরিচয় নিশ্চিত করা হতে পারে।

রোববার দুপুরের দিকে কারখানাটিতে আগুন লাগার পর স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। সৌদি স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে অভিযান শেষ হয়। ঘটনাস্থল থেকে মোট ১৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং জানিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, কারখানাটিতে মোট ১৭ জন বাংলাদেশি কর্মী ছিলেন। তাদের মধ্যে হাবিবুর রহমান নামে একজন কর্মী জীবিত আছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে তিনি চুল কাটাতে কারখানা থেকে বের হয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি কারখানায় আগুন দেখতে পান।

স্থানীয় সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে আটজন আগুনে পুড়ে এবং অপর আটজন ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান। তারা কারখানার একটি অংশে বসবাস করতেন।

অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পাসপোর্ট ও ইকামাসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্তে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ করছে।

শিফা থানার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ফয়সাল আলউতাইবি জানিয়েছেন, নথিপত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রথমে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হবে। এতে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ নিহতদের মৃত্যু সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে। এরপর পরিবারের লিখিত মতামতের ভিত্তিতে মরদেহ সৌদি আরবে দাফন করা হবে, নাকি বাংলাদেশে পাঠানো হবে—সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণসহ পরবর্তী সব প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, প্রায় ১০ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

সৌদিতে কারখানায় আগুন, নিহত ১৬ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার প্রস্তুতি

Update Time : ০৭:৫২:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের শিফা থানার মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে প্রথমে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেও পরিচয় নিশ্চিত করা হতে পারে।

রোববার দুপুরের দিকে কারখানাটিতে আগুন লাগার পর স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। সৌদি স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে অভিযান শেষ হয়। ঘটনাস্থল থেকে মোট ১৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং জানিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, কারখানাটিতে মোট ১৭ জন বাংলাদেশি কর্মী ছিলেন। তাদের মধ্যে হাবিবুর রহমান নামে একজন কর্মী জীবিত আছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে তিনি চুল কাটাতে কারখানা থেকে বের হয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি কারখানায় আগুন দেখতে পান।

স্থানীয় সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে আটজন আগুনে পুড়ে এবং অপর আটজন ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান। তারা কারখানার একটি অংশে বসবাস করতেন।

অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পাসপোর্ট ও ইকামাসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্তে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ করছে।

শিফা থানার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ফয়সাল আলউতাইবি জানিয়েছেন, নথিপত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রথমে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হবে। এতে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ নিহতদের মৃত্যু সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে। এরপর পরিবারের লিখিত মতামতের ভিত্তিতে মরদেহ সৌদি আরবে দাফন করা হবে, নাকি বাংলাদেশে পাঠানো হবে—সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণসহ পরবর্তী সব প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস।