ঢাকা ০৯:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা, কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের আভাস জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন পরিদর্শন শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লিডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ন্যারেটিভ বা অপপ্রচার হলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী পরিবেশবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাহাজ শিল্প গড়ার উদ্যোগ চকরিয়ায় লেগুনা-বাস সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ৫ খুলনায় শিশু নির্যাতন মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মুকসুদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক নিহত অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও, গ্রেপ্তার ২

পরিবেশবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাহাজ শিল্প গড়ার উদ্যোগ

দেশের জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে পরিবেশসম্মত, নিরাপদ, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তুলতে বিদ্যমান আইন, বিধি ও নীতিমালা পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পৃথক দুটি সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।

সভায় জাহাজ নির্মাণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা, শ্রমিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ, প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং অর্থায়ন সুবিধা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের অর্থনৈতিক গুরুত্ব, কর্মসংস্থান, দেশীয় ইস্পাত শিল্পে কাঁচামাল সরবরাহ এবং সার্কুলার অর্থনীতিতে সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্যপানি শোধন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, মাটি পুনরুদ্ধার এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। জাতীয় পর্যায়ে ট্রিটমেন্ট, স্টোরেজ অ্যান্ড ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটি (টিএসডিএফ), ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় ইনসিনারেটর স্থাপনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সম্ভাবনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, তুলনামূলক কম শ্রম ব্যয়, কারিগরি সক্ষমতা, অভ্যন্তরীণ বাজার ও রপ্তানির সুযোগকে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আধুনিক ড্রাইডক, মডুলার শিপবিল্ডিং, রপ্তানিমুখী শিপইয়ার্ড, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

বিশ্ব নৌপরিবহন খাতে পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইএমওর নেট-জিরো উদ্যোগ, কম-কার্বন ও বিকল্প জ্বালানি, এলএনজি, গ্রিন স্টিল এবং কার্বন ট্রেডিংয়ের মতো বৈশ্বিক প্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে শিল্পের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

সভায় শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে গ্রিন ফাইন্যান্স, সরকারি গ্যারান্টি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব ও রপ্তানি ঋণসহ প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর, সংস্থা ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বাড়িয়ে বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করা এবং বাস্তবসম্মত সুপারিশ প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিবেশ ও শ্রমিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের জাহাজ শিল্পকে পরিবেশবান্ধব, প্রযুক্তিনির্ভর, নিরাপদ এবং বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

সভায় অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধি, নৌপরিবহন খাতের কর্মকর্তা, শিল্প উদ্যোক্তা এবং অন্যান্য অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

পরিবেশবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাহাজ শিল্প গড়ার উদ্যোগ

Update Time : ১১:৫০:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

দেশের জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে পরিবেশসম্মত, নিরাপদ, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তুলতে বিদ্যমান আইন, বিধি ও নীতিমালা পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পৃথক দুটি সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।

সভায় জাহাজ নির্মাণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা, শ্রমিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ, প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং অর্থায়ন সুবিধা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের অর্থনৈতিক গুরুত্ব, কর্মসংস্থান, দেশীয় ইস্পাত শিল্পে কাঁচামাল সরবরাহ এবং সার্কুলার অর্থনীতিতে সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্যপানি শোধন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, মাটি পুনরুদ্ধার এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। জাতীয় পর্যায়ে ট্রিটমেন্ট, স্টোরেজ অ্যান্ড ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটি (টিএসডিএফ), ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় ইনসিনারেটর স্থাপনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সম্ভাবনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, তুলনামূলক কম শ্রম ব্যয়, কারিগরি সক্ষমতা, অভ্যন্তরীণ বাজার ও রপ্তানির সুযোগকে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আধুনিক ড্রাইডক, মডুলার শিপবিল্ডিং, রপ্তানিমুখী শিপইয়ার্ড, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

বিশ্ব নৌপরিবহন খাতে পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইএমওর নেট-জিরো উদ্যোগ, কম-কার্বন ও বিকল্প জ্বালানি, এলএনজি, গ্রিন স্টিল এবং কার্বন ট্রেডিংয়ের মতো বৈশ্বিক প্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে শিল্পের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

সভায় শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে গ্রিন ফাইন্যান্স, সরকারি গ্যারান্টি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব ও রপ্তানি ঋণসহ প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর, সংস্থা ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বাড়িয়ে বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করা এবং বাস্তবসম্মত সুপারিশ প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিবেশ ও শ্রমিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের জাহাজ শিল্পকে পরিবেশবান্ধব, প্রযুক্তিনির্ভর, নিরাপদ এবং বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

সভায় অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধি, নৌপরিবহন খাতের কর্মকর্তা, শিল্প উদ্যোক্তা এবং অন্যান্য অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।