নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সড়কের পাশে রোপণ করা চারা গাছ উপড়ে ফেলার ঘটনাকে ‘বৃক্ষ হত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে এর সঙ্গে জড়িতদের আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
ঘটনার দুই দিন পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। শুক্রবার জুমার নামাজের পর উপজেলার বাবনি এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত গাছের চারা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ নির্দেশ দেন।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, একটি গাছ কেবল একটি উদ্ভিদ নয়, এর সঙ্গে জীবনের সম্পর্ক রয়েছে। বাবনি এলাকায় রোপণ করা চারাগুলো উপড়ে ফেলার ঘটনাকে তিনি ‘গাছ হত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের সঠিক পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং মানুষের জীবনযাত্রার জন্য বৃক্ষের গুরুত্ব অপরিসীম। কোনো অপচেষ্টার কারণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বন্ধ করা যাবে না। বরং ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে নতুন করে আরও ১ হাজার ২০০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে।
পরে তিনি ওই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। নতুন চারাগুলো যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য নিয়মিত পরিচর্যা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ঘটনার পর দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত করা প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল। কিন্তু দুই দিন পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তিনি অসন্তুষ্ট। এ সময় আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এসব গাছ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একক সম্পদ নয়; এগুলো জনসাধারণের সম্পদ। একটি গাছ রক্ষা করার অর্থ একটি জীবন ও পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখা। গাছের সুরক্ষায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
জানা গেছে, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের দিকনির্দেশনায় গত ৫ আগস্ট স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের তত্ত্বাবধানে বাবনি এলাকায় সড়কের পাশে পাঁচ শতাধিক চারা গাছ রোপণ করা হয়। এর মধ্যে গত ২৫ আগস্ট রাতে ৩৫টি চারা ও সেগুলোর সুরক্ষাবেষ্টনী উপড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে।
নতুন করে চারা রোপণ কর্মসূচিতে নেত্রকোনা জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা, কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন. এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (বারহাট্টা সার্কেল) সাব্বির হাসান, কলমাকান্দা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. এ. খায়েরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নেত্রকোনা প্রতিনিধি 


















