ঢাকা ০৪:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডেঙ্গু মোকাবিলায় তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি, বাড়ছে হাসপাতালের প্রস্তুতি ট্রাইব্যুনালের ১৬ মৃত্যুদণ্ডের রায়ে হাইকোর্টের কঠোর সমালোচনা বেনজীরসহ বিদেশে পালিয়ে থাকা আসামিদের ফেরাতে সর্বোচ্চ উদ্যোগ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দিনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে ৫৮১ কোটি টাকা উত্তোলন জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা বরিশালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেখ হাসিনাকে মিডিয়ায় বক্তব্যের সুযোগ না দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সরকারি ভ্রমণ ব্যয়ে সাত নির্দেশনা বাধ্যতামূলক গভীর রাতে সড়ক ঢালাই কাজ পরিদর্শনে পৌর প্রশাসক মুন মুন জাহান লিজা কোটচাঁদপুরে বাসের ধাক্কায় হোটেল শ্রমিক নিহত, ঘাতক বাস শনাক্তে পুলিশের অভিযান

বাগেরহাটে নির্মল বায়ু ও নীল আকাশ দিবস পালিত

‘জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করি, নির্মল বায়ুর ভবিষ্যৎ গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাগেরহাটে আন্তর্জাতিক নির্মল বায়ু ও নীল আকাশ দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা, শপথ গ্রহণ এবং ফলদ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

সোমবার বিকেল ৩টায় বাগেরহাট সদর উপজেলার কে. জে. এস. পি. ইউ. রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ এবং ইনিশিয়েটিভ ফর রাইট ভিউ-এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদ্যালয়ের হলরুমে আলোচনা সভায় বায়ু দূষণের বিভিন্ন কারণ, এর ক্ষতিকর প্রভাব, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনা সভায় পরিবেশ সুরক্ষা নাগরিক কমিটি, বাগেরহাটের সভাপতি মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, সুস্থভাবে জীবনযাপনের জন্য নির্মল বায়ুর বিকল্প নেই। বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল হতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

কমিটির সহসভাপতি মোল্লা মনিরুজ্জামান বলেন, পরিবেশ রক্ষায় নিয়মিত বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

ইনিশিয়েটিভ ফর রাইট ভিউ-এর ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর হাসান মাহমুদ জসীম বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে চারা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যার মানসিকতাও তৈরি করতে হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থী যদি একটি করে গাছের দায়িত্ব নেয় এবং তা যত্নে বড় করে তোলে, তাহলে বিদ্যালয় ও আশপাশের পরিবেশ দ্রুত সবুজ হয়ে উঠবে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতন করে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বায়ু দূষণের ক্ষতিকর দিক এবং পরিবেশ রক্ষায় নিজেদের করণীয় সম্পর্কে জানতে পারছে। তারা এসব শিক্ষা পরিবার ও সমাজে ছড়িয়ে দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরাও পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে নিজেদের অঙ্গীকারের কথা জানায়। শিক্ষার্থী সজীব শেখ বলেন, বায়ু দূষণ স্বাস্থ্যের ওপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তা অনুষ্ঠানে এসে আরও ভালোভাবে জানতে পেরেছেন। পাওয়া চারাটি যত্নের সঙ্গে বড় করার পাশাপাশি পরিবার ও বন্ধুদেরও পরিবেশ দূষণ রোধে সচেতন করবেন বলে জানান তিনি।

শিক্ষার্থী ঐশী বলেন, গাছ শুধু পরিবেশকে সুন্দর করে না, নির্মল বাতাস ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকা আরও সবুজ করতে সবাইকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

আলোচনা সভা শেষে বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এসব চারার মধ্যে কদবেল, পেয়ারা, আমলকী ও চালতাসহ বিভিন্ন জাতের ফলদ গাছ ছিল।

পরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্তর্জাতিক নির্মল বায়ু ও নীল আকাশ দিবসের শপথ পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বায়ু দূষণ কমানো, বৃক্ষরোপণ বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং একটি সবুজ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ সুরক্ষা নাগরিক কমিটি বাগেরহাটের সভাপতি মোল্লা নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি মোল্লা মনিরুজ্জামান, কার্যকরী সদস্য শেখ আব্দুল গনি, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান, সহকারী শিক্ষক সুজিত দাস, কার্তিক চন্দ্র দাস ও সাহানারা ইয়াসমিন মুন্নি এবং ইনিশিয়েটিভ ফর রাইট ভিউ-এর ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর হাসান মাহমুদ জসীমসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, নির্মল বায়ু ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার, ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় নেওয়া ছোট ছোট উদ্যোগই ভবিষ্যতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু মোকাবিলায় তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি, বাড়ছে হাসপাতালের প্রস্তুতি

বাগেরহাটে নির্মল বায়ু ও নীল আকাশ দিবস পালিত

Update Time : ১১:২৭:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করি, নির্মল বায়ুর ভবিষ্যৎ গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাগেরহাটে আন্তর্জাতিক নির্মল বায়ু ও নীল আকাশ দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা, শপথ গ্রহণ এবং ফলদ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

সোমবার বিকেল ৩টায় বাগেরহাট সদর উপজেলার কে. জে. এস. পি. ইউ. রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ এবং ইনিশিয়েটিভ ফর রাইট ভিউ-এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদ্যালয়ের হলরুমে আলোচনা সভায় বায়ু দূষণের বিভিন্ন কারণ, এর ক্ষতিকর প্রভাব, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনা সভায় পরিবেশ সুরক্ষা নাগরিক কমিটি, বাগেরহাটের সভাপতি মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, সুস্থভাবে জীবনযাপনের জন্য নির্মল বায়ুর বিকল্প নেই। বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল হতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

কমিটির সহসভাপতি মোল্লা মনিরুজ্জামান বলেন, পরিবেশ রক্ষায় নিয়মিত বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

ইনিশিয়েটিভ ফর রাইট ভিউ-এর ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর হাসান মাহমুদ জসীম বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে চারা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যার মানসিকতাও তৈরি করতে হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থী যদি একটি করে গাছের দায়িত্ব নেয় এবং তা যত্নে বড় করে তোলে, তাহলে বিদ্যালয় ও আশপাশের পরিবেশ দ্রুত সবুজ হয়ে উঠবে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতন করে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বায়ু দূষণের ক্ষতিকর দিক এবং পরিবেশ রক্ষায় নিজেদের করণীয় সম্পর্কে জানতে পারছে। তারা এসব শিক্ষা পরিবার ও সমাজে ছড়িয়ে দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরাও পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে নিজেদের অঙ্গীকারের কথা জানায়। শিক্ষার্থী সজীব শেখ বলেন, বায়ু দূষণ স্বাস্থ্যের ওপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তা অনুষ্ঠানে এসে আরও ভালোভাবে জানতে পেরেছেন। পাওয়া চারাটি যত্নের সঙ্গে বড় করার পাশাপাশি পরিবার ও বন্ধুদেরও পরিবেশ দূষণ রোধে সচেতন করবেন বলে জানান তিনি।

শিক্ষার্থী ঐশী বলেন, গাছ শুধু পরিবেশকে সুন্দর করে না, নির্মল বাতাস ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকা আরও সবুজ করতে সবাইকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

আলোচনা সভা শেষে বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এসব চারার মধ্যে কদবেল, পেয়ারা, আমলকী ও চালতাসহ বিভিন্ন জাতের ফলদ গাছ ছিল।

পরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্তর্জাতিক নির্মল বায়ু ও নীল আকাশ দিবসের শপথ পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বায়ু দূষণ কমানো, বৃক্ষরোপণ বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং একটি সবুজ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ সুরক্ষা নাগরিক কমিটি বাগেরহাটের সভাপতি মোল্লা নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি মোল্লা মনিরুজ্জামান, কার্যকরী সদস্য শেখ আব্দুল গনি, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান, সহকারী শিক্ষক সুজিত দাস, কার্তিক চন্দ্র দাস ও সাহানারা ইয়াসমিন মুন্নি এবং ইনিশিয়েটিভ ফর রাইট ভিউ-এর ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর হাসান মাহমুদ জসীমসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, নির্মল বায়ু ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার, ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় নেওয়া ছোট ছোট উদ্যোগই ভবিষ্যতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।