যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধ শিগগিরই নিষ্পত্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (২৫ অক্টোবর) মিশিগান অঙ্গরাজ্যের কানাডা সীমান্তবর্তী শহর পোর্ট হুরনে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে তাঁর এ বক্তব্য এসেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেছেন, দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধের সমাধান খুব শিগগিরই হতে পারে। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে কানাডা এখন নানা ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত। তবে সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত বা তা চূড়ান্ত হওয়ার নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
গত আগস্টে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন।
পোর্ট হুরনের সমাবেশে ট্রাম্প এসব শুল্ক আরোপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, কানাডা দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অন্যায্য সুবিধা নিয়ে আসছে। তবে এ বিষয়ে কানাডার পক্ষ থেকে ভিন্ন অবস্থান রয়েছে।
আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্কের আওতায় পড়ে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্য। এসব পণ্যের মধ্যে হকি খেলার স্টিক থেকে শুরু করে সিমেন্টও রয়েছে।
জবাবে কানাডা সমপরিমাণ মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। পরে ট্রাম্প প্রশাসন নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে বিরোধ আরও বাড়ায়।
শুক্রবার হোয়াইট হাউস কানাডার কিছু পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্কের অংশবিশেষ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। মার্কিন সিনেটর সুসান কলিন্সের অনুরোধের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন ব্যবসা ও অর্থনৈতিক খাতও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
মেইনের রিপাবলিকান সিনেটর কলিন্সের আসনটি এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের লক্ষ্যবস্তু। সিনেটে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ডেমোক্র্যাটরা আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপ করে আসছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পাল্টাপাল্টি শুল্কের কারণে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান দুই দেশের সরবরাহব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
এ অবস্থায় ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে আনুষ্ঠানিক চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত শুল্ক বিরোধের চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
সূত্র: বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্স ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 




















