ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
এআই দিয়ে সেনা কর্মকর্তা পরিচয়, স্কুলছাত্রীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার সাড়ে পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম রাজস্ব ৫৯৯ কোটি টাকা বাল্যবিবাহ কোনো সমাধান নয়, তৈরি করে বড় সামাজিক সংকট: মাহদী আমিন মিয়ানমারের শান্তি ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ইউনূস-সাসাকাওয়া বৈঠক ২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানি সংকট সমাধানের পরিকল্পনা সরকারের জাতীয় সংসদে আরও চার স্থায়ী কমিটি গঠন ইয়ামালের জোড়া গোলে ভ্যালেন্সিয়াকে উড়িয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা জরুরি মেরামতে ৩ দিন বন্ধ থাকবে কালিরখাল বেইলী সেতু দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের টেস্ট দলে লাবুশেন, ফিরলেন কুনেমান-নেসার সরকারি হাসপাতালে চালু হবে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, অগ্রাধিকার পাচ্ছে রোগীর তথ্য সুরক্ষা

সাড়ে পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম রাজস্ব ৫৯৯ কোটি টাকা

অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে গত সাড়ে পাঁচ বছরে ৫৯৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে এ আয় হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম সংক্রান্ত তথ্য বলছে, গত দেড় বছরেই নিলাম থেকে রাজস্ব এসেছে ২৮৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় নিলাম কার্যক্রমে গতি আসার পাশাপাশি বন্দরের ইয়ার্ডে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা পণ্য সরানোর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কনটেইনারের জট কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে খালাস না হওয়া নিলামযোগ্য পণ্য নিয়মিত নিলামে তোলা হচ্ছে। অন্যদিকে নিলামের মাধ্যমে বিক্রির উপযোগী নয় এমন পণ্য বিধি অনুযায়ী ধ্বংস করা হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ২৪টি নিলামের মাধ্যমে ১ হাজার ৮১৪টি লট বিক্রি করে ১১৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। পরের বছর ৪২টি নিলামে ১ হাজার ৩৮১টি লট বিক্রি হয়, যা থেকে আয় আসে ১৩০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

২০২৩ সালে ২৩টি নিলামের মাধ্যমে ৬৩২টি লট বিক্রি করে ৪১ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং ২০২৪ সালে ৫৫টি নিলামে ৫১১টি লট বিক্রি করে ২৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা রাজস্ব পায় চট্টগ্রাম কাস্টমস।

২০২৫ সালে নিলাম কার্যক্রম আরও বাড়ে। ওই বছর ৬০টি নিলামে ১ হাজার ৪০টি লট বিক্রি করে রাজস্ব আদায় হয় ১২৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৪৫টি অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নিলামে ৩৮৩টি লট বিক্রি করে ১৫৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা রাজস্ব এসেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী প্রতিষ্ঠান কে এম কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোরশেদ জানান, কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নিলাম পরিচালনা, পণ্যের ইনভেন্টরি তৈরি এবং নিলামে বিক্রি হওয়া পণ্য ক্রেতার কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার কাজ করে আসছে তাদের প্রতিষ্ঠান।

তিনি জানান, ২০২৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে নিলাম থেকে ২৮৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। তার দাবি, স্বল্প সময়ে নিলাম থেকে এত বেশি রাজস্ব আদায় চট্টগ্রাম কাস্টমসের জন্য উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শাখার সহকারী কমিশনার আবু সুফিয়ান বলেন, এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে খালাস না হওয়া পণ্য অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। নিলামের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পণ্য বিক্রি থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নিলামের উপযোগী নয় এমন পণ্য সরিয়ে ফেলার কার্যক্রমও চলছে। এর ফলে বন্দরের ইয়ার্ডে দীর্ঘদিন আটকে থাকা পণ্য কমানোর পাশাপাশি নতুন পণ্য রাখার জায়গা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই দিয়ে সেনা কর্মকর্তা পরিচয়, স্কুলছাত্রীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

সাড়ে পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম রাজস্ব ৫৯৯ কোটি টাকা

Update Time : ০৫:৪১:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে গত সাড়ে পাঁচ বছরে ৫৯৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে এ আয় হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম সংক্রান্ত তথ্য বলছে, গত দেড় বছরেই নিলাম থেকে রাজস্ব এসেছে ২৮৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় নিলাম কার্যক্রমে গতি আসার পাশাপাশি বন্দরের ইয়ার্ডে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা পণ্য সরানোর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কনটেইনারের জট কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে খালাস না হওয়া নিলামযোগ্য পণ্য নিয়মিত নিলামে তোলা হচ্ছে। অন্যদিকে নিলামের মাধ্যমে বিক্রির উপযোগী নয় এমন পণ্য বিধি অনুযায়ী ধ্বংস করা হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ২৪টি নিলামের মাধ্যমে ১ হাজার ৮১৪টি লট বিক্রি করে ১১৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। পরের বছর ৪২টি নিলামে ১ হাজার ৩৮১টি লট বিক্রি হয়, যা থেকে আয় আসে ১৩০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

২০২৩ সালে ২৩টি নিলামের মাধ্যমে ৬৩২টি লট বিক্রি করে ৪১ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং ২০২৪ সালে ৫৫টি নিলামে ৫১১টি লট বিক্রি করে ২৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা রাজস্ব পায় চট্টগ্রাম কাস্টমস।

২০২৫ সালে নিলাম কার্যক্রম আরও বাড়ে। ওই বছর ৬০টি নিলামে ১ হাজার ৪০টি লট বিক্রি করে রাজস্ব আদায় হয় ১২৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৪৫টি অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নিলামে ৩৮৩টি লট বিক্রি করে ১৫৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা রাজস্ব এসেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী প্রতিষ্ঠান কে এম কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোরশেদ জানান, কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নিলাম পরিচালনা, পণ্যের ইনভেন্টরি তৈরি এবং নিলামে বিক্রি হওয়া পণ্য ক্রেতার কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার কাজ করে আসছে তাদের প্রতিষ্ঠান।

তিনি জানান, ২০২৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে নিলাম থেকে ২৮৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। তার দাবি, স্বল্প সময়ে নিলাম থেকে এত বেশি রাজস্ব আদায় চট্টগ্রাম কাস্টমসের জন্য উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শাখার সহকারী কমিশনার আবু সুফিয়ান বলেন, এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে খালাস না হওয়া পণ্য অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। নিলামের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পণ্য বিক্রি থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নিলামের উপযোগী নয় এমন পণ্য সরিয়ে ফেলার কার্যক্রমও চলছে। এর ফলে বন্দরের ইয়ার্ডে দীর্ঘদিন আটকে থাকা পণ্য কমানোর পাশাপাশি নতুন পণ্য রাখার জায়গা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।