ঢাকা ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেনাপোলে ইউনুস আলী হত্যা রহস্য উদঘাটন, পিবিআই’র জালে দুইজন আটক

যশোরের বেনাপোলে চাঞ্চল্যকর ইউনুস আলী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে আটক করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন, বেনাপোলের রহমতপুর গ্রামের মহিউদ্দিন শেখের ছেলে তরিকুল ইসলাম এবং একই গ্রামের আরাফাতের ছেলে সবুজ হোসেন (২১)। নিহত ইউনুস আলী (৪৭) ছোট আচড়া গ্রামের মৃত মোস্তাব আলীর ছেলে। তিনি বেনাপোল স্থলবন্দরের একটি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিতে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পিবিআই পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান জানান, পারিবারিক জটিলতা ও পূর্বের দাম্পত্য বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহতের স্ত্রী তাসলিমা খাতুনের সঙ্গে একই এলাকার আনোয়ার হোসেনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিয়ে, বিচ্ছেদ এবং পুনরায় সংসার এসব ঘটনার জেরে বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং সেখান থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
গত ২২ এপ্রিল কৌশলে তরিকুল ইসলাম ইউনুস আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে রহমতপুরের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আনোয়ারসহ আরও কয়েকজন মিলে তাকে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন করে। একপর্যায়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। পরে সবুজের অ্যাপাচি মোটরসাইকেলে মরদেহ বেনাপোল-পুটখালী সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই ইউসুফ আলী বেনাপোল পোর্ট থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআই যশোরের এসআই রতন মিয়া।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে গত ২৭ এপ্রিল রাতে গোপালগঞ্জ থেকে তরিকুল ইসলামকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সবুজ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। তবে মামলার মূল পরিকল্পনাকারী আনোয়ার হোসেনসহ আরও কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
গত শুক্রবার সকালে যশোর শহরের ২৫০ শয্যা হাসপাতাল এলাকা থেকে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ তাকে আটক করে। ওই দিন বিকেলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার তদন্তে স্ত্রী তাসলিমা খাতুনের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। পরে তাকে আটক করা হয়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

বেনাপোলে ইউনুস আলী হত্যা রহস্য উদঘাটন, পিবিআই’র জালে দুইজন আটক

Update Time : ০৯:২৮:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

যশোরের বেনাপোলে চাঞ্চল্যকর ইউনুস আলী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে আটক করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন, বেনাপোলের রহমতপুর গ্রামের মহিউদ্দিন শেখের ছেলে তরিকুল ইসলাম এবং একই গ্রামের আরাফাতের ছেলে সবুজ হোসেন (২১)। নিহত ইউনুস আলী (৪৭) ছোট আচড়া গ্রামের মৃত মোস্তাব আলীর ছেলে। তিনি বেনাপোল স্থলবন্দরের একটি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিতে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পিবিআই পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান জানান, পারিবারিক জটিলতা ও পূর্বের দাম্পত্য বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহতের স্ত্রী তাসলিমা খাতুনের সঙ্গে একই এলাকার আনোয়ার হোসেনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিয়ে, বিচ্ছেদ এবং পুনরায় সংসার এসব ঘটনার জেরে বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং সেখান থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
গত ২২ এপ্রিল কৌশলে তরিকুল ইসলাম ইউনুস আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে রহমতপুরের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আনোয়ারসহ আরও কয়েকজন মিলে তাকে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন করে। একপর্যায়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। পরে সবুজের অ্যাপাচি মোটরসাইকেলে মরদেহ বেনাপোল-পুটখালী সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই ইউসুফ আলী বেনাপোল পোর্ট থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআই যশোরের এসআই রতন মিয়া।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে গত ২৭ এপ্রিল রাতে গোপালগঞ্জ থেকে তরিকুল ইসলামকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সবুজ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। তবে মামলার মূল পরিকল্পনাকারী আনোয়ার হোসেনসহ আরও কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
গত শুক্রবার সকালে যশোর শহরের ২৫০ শয্যা হাসপাতাল এলাকা থেকে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ তাকে আটক করে। ওই দিন বিকেলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার তদন্তে স্ত্রী তাসলিমা খাতুনের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। পরে তাকে আটক করা হয়।