ঢাকা ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গণমাধ্যমকে গঠনমূলক ভূমিকার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর সম্প্রীতি অগ্রাধিকার দিয়ে পাহাড়ে সুষম ও টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকার: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নে ১০০ কোটি ডলারের অর্থায়ন চুক্তি প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে বিনিয়োগের আহ্বান রাষ্ট্রপতির মহেশপুরে ভারতীয় অবৈধ ওষুধ উদ্ধার, দম্পতি গ্রেফতার টেকসই শান্তির জন্য নারী নেতৃত্ব বাড়ানোর আহ্বান আইরিন খানের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আরও তীব্র, পাল্টাপাল্টি হুমকিতে বাড়ছে উত্তেজনা নরসিংদীতে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান, ৭ মামলা ও ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে জনস্বাস্থ্য গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিয়ে সেমিনার দুর্নীতি, অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে পুলিশের তিন কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত

সম্প্রীতি অগ্রাধিকার দিয়ে পাহাড়ে সুষম ও টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকার: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

পার্বত্য চট্টগ্রামে সম্প্রীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।

বৃহস্পতিবার সকালে বান্দরবানে একদিনের সরকারি সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। সফরকালে প্রতিমন্ত্রী জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন, উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন এমনভাবে করতে হবে, যাতে কোনো জাতিগোষ্ঠী পিছিয়ে না থাকে। সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ ও সুযোগ নিশ্চিত করেই উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু দৃশ্যমান প্রকল্প বাস্তবায়ন করাই উন্নয়নের লক্ষ্য হতে পারে না। প্রকল্পগুলো দীর্ঘমেয়াদি, কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী হওয়া প্রয়োজন। কোনো প্রকল্প নির্মাণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি অকার্যকর হয়ে পড়বে—এমন উন্নয়ন আর করা হবে না। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে মানুষের বাস্তব প্রয়োজন পূরণ করে এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

পাহাড়ে ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের কোনো সমস্যা হঠাৎ করে সমাধান করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে প্রথমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের সব অংশীজনের মতামত নিতে হবে।

তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সশস্ত্র বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, আঞ্চলিক পরিষদ, পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ রয়েছে। সবার সঙ্গে আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ঐকমত্যে পৌঁছানো প্রয়োজন। এর মধ্য দিয়েই এমন সমাধান বের করতে হবে, যাতে পাহাড়ের সব মানুষ উপকৃত হন।

সফরকালে বান্দরবানে শিশুদের জন্য নির্মিত একটি হোস্টেল এবং আধুনিক চিকিৎসা সুবিধাসম্পন্ন এমডিসিএস হাসপাতালের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠান দুটির অবকাঠামো ও কার্যক্রম প্রশংসনীয়। হাসপাতালটি থেকে স্থানীয় সাধারণ মানুষ উল্লেখযোগ্য চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। গত বছর প্রায় ১০ হাজার মানুষ হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সরকারি সফরে প্রতিমন্ত্রী বান্দরবান এমডিসিএস হাসপাতালের নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের ভবন সম্প্রসারণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের ছাত্রাবাস ভবনের উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া তিনি জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করেন।

এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মোহাম্মদ কামরুল হাসান খানসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গণমাধ্যমকে গঠনমূলক ভূমিকার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

সম্প্রীতি অগ্রাধিকার দিয়ে পাহাড়ে সুষম ও টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকার: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

Update Time : ০৭:৪৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামে সম্প্রীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।

বৃহস্পতিবার সকালে বান্দরবানে একদিনের সরকারি সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। সফরকালে প্রতিমন্ত্রী জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন, উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন এমনভাবে করতে হবে, যাতে কোনো জাতিগোষ্ঠী পিছিয়ে না থাকে। সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ ও সুযোগ নিশ্চিত করেই উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু দৃশ্যমান প্রকল্প বাস্তবায়ন করাই উন্নয়নের লক্ষ্য হতে পারে না। প্রকল্পগুলো দীর্ঘমেয়াদি, কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী হওয়া প্রয়োজন। কোনো প্রকল্প নির্মাণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি অকার্যকর হয়ে পড়বে—এমন উন্নয়ন আর করা হবে না। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে মানুষের বাস্তব প্রয়োজন পূরণ করে এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

পাহাড়ে ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের কোনো সমস্যা হঠাৎ করে সমাধান করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে প্রথমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের সব অংশীজনের মতামত নিতে হবে।

তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সশস্ত্র বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, আঞ্চলিক পরিষদ, পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ রয়েছে। সবার সঙ্গে আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ঐকমত্যে পৌঁছানো প্রয়োজন। এর মধ্য দিয়েই এমন সমাধান বের করতে হবে, যাতে পাহাড়ের সব মানুষ উপকৃত হন।

সফরকালে বান্দরবানে শিশুদের জন্য নির্মিত একটি হোস্টেল এবং আধুনিক চিকিৎসা সুবিধাসম্পন্ন এমডিসিএস হাসপাতালের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠান দুটির অবকাঠামো ও কার্যক্রম প্রশংসনীয়। হাসপাতালটি থেকে স্থানীয় সাধারণ মানুষ উল্লেখযোগ্য চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। গত বছর প্রায় ১০ হাজার মানুষ হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সরকারি সফরে প্রতিমন্ত্রী বান্দরবান এমডিসিএস হাসপাতালের নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের ভবন সম্প্রসারণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের ছাত্রাবাস ভবনের উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া তিনি জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করেন।

এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মোহাম্মদ কামরুল হাসান খানসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।