ঢাকা ১২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
নরসিংদীতে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান, ৭ মামলা ও ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে জনস্বাস্থ্য গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিয়ে সেমিনার দুর্নীতি, অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে পুলিশের তিন কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত পাঁচ মাস পর চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস রাজশাহী বিভাগে সারের ঘাটতি নেই, কৃত্রিম সংকট রোধে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দীর্ঘদিন সমুদ্রে থাকার পর থাইল্যান্ডে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, পাত্তায়ায় বাড়ানো হলো নিরাপত্তা বিএনপিতে ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুলের চীন-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা: নেপালে নিহত ১,১১৪, নিখোঁজ প্রায় ৪ হাজার মার্কিন নিষেধাজ্ঞার শঙ্কার মধ্যেই কায়রোয় সি চিনপিং, বাড়ছে চীন-মিশর অর্থনৈতিক ঘনিষ্ঠতা ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নতুন প্রণোদনা, ইউনিটপ্রতি মিলবে ১০ টাকা ৫০ পয়সা

দুর্নীতি, অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে পুলিশের তিন কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত

দুর্নীতি, অসদাচরণ এবং অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পাশাপাশি পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে চাকরি থেকে অপসারণ এবং অপর দুজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা হলেন—নেত্রকোনার ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম এবং পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত এএসপি মো. হাবিবুল্লাহ দালাল।

এসআই পদে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাজশাহী মহানগর পুলিশে দায়িত্ব পালনের সময় মোহাম্মদ রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগে বলা হয়, কামরুজ্জামান নামের ওই ব্যক্তির কাছে চাকরি দেওয়ার শর্তে ১৭ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০১৫ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আরও ৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়।

পরে চাকরি না হওয়ায় বিষয়টি তদন্তের পর্যায়ে গেলে রোকনুজ্জামান ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোট ৫ লাখ ৫২ হাজার ১৬৩ টাকা ফেরত দেন।

বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতিপরায়ণতার’ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। ২০২১ সালে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানান। পরবর্তীতে তাকে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

পরে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামতের ভিত্তিতে তাকে চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় স্ত্রীর কাছে যাওয়ায় এএসপি বরখাস্ত

পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত এএসপি মো. হাবিবুল্লাহ দালালের বিরুদ্ধেও অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২২ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ছুটি ভোগের পর ২৬ জানুয়ারি তিনি আর কর্মস্থলে যোগ দেননি। অনুমোদন ছাড়া অনুপস্থিত থেকে তিনি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী স্ত্রীর কাছে চলে যান বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

তার অনুপস্থিতির সময়সীমা ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় পুলিশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিভাগীয় মামলায় তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ আনা হয়। তদন্তে উভয় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরে পিএসসি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের পক্ষে মত দেয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে তার চাকরিচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে।

রাশেদুল ইসলামের বিরুদ্ধেও পলায়নের অভিযোগ

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রাশেদুল ইসলামও দীর্ঘদিন অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে চাকরি হারিয়েছেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ মার্চ থেকে তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তার স্থায়ী ঠিকানায় একাধিকবার নোটিশ পাঠানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ ও ই-মেইলেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি কোনো নোটিশের জবাব দেননি।

অনুমোদনহীন অনুপস্থিতির সময় ৬০ দিন ছাড়িয়ে গেলে ২০২৫ সালের আগস্টে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। মামলায় ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ আনা হয়। তদন্তে উভয় অভিযোগই প্রমাণিত হয়।

এরপর তাকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পিএসসির মতামতের পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে তাকে বরখাস্ত করা হয়। তার বরখাস্তের আদেশ ২০২৫ সালের ৯ মার্চ থেকে কার্যকর হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

নরসিংদীতে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান, ৭ মামলা ও ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা

দুর্নীতি, অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে পুলিশের তিন কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত

Update Time : ০৫:২৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুর্নীতি, অসদাচরণ এবং অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পাশাপাশি পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে চাকরি থেকে অপসারণ এবং অপর দুজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা হলেন—নেত্রকোনার ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম এবং পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত এএসপি মো. হাবিবুল্লাহ দালাল।

এসআই পদে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাজশাহী মহানগর পুলিশে দায়িত্ব পালনের সময় মোহাম্মদ রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগে বলা হয়, কামরুজ্জামান নামের ওই ব্যক্তির কাছে চাকরি দেওয়ার শর্তে ১৭ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০১৫ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আরও ৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়।

পরে চাকরি না হওয়ায় বিষয়টি তদন্তের পর্যায়ে গেলে রোকনুজ্জামান ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোট ৫ লাখ ৫২ হাজার ১৬৩ টাকা ফেরত দেন।

বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতিপরায়ণতার’ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। ২০২১ সালে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানান। পরবর্তীতে তাকে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

পরে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামতের ভিত্তিতে তাকে চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় স্ত্রীর কাছে যাওয়ায় এএসপি বরখাস্ত

পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত এএসপি মো. হাবিবুল্লাহ দালালের বিরুদ্ধেও অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২২ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ছুটি ভোগের পর ২৬ জানুয়ারি তিনি আর কর্মস্থলে যোগ দেননি। অনুমোদন ছাড়া অনুপস্থিত থেকে তিনি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী স্ত্রীর কাছে চলে যান বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

তার অনুপস্থিতির সময়সীমা ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় পুলিশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিভাগীয় মামলায় তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ আনা হয়। তদন্তে উভয় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরে পিএসসি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের পক্ষে মত দেয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে তার চাকরিচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে।

রাশেদুল ইসলামের বিরুদ্ধেও পলায়নের অভিযোগ

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রাশেদুল ইসলামও দীর্ঘদিন অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে চাকরি হারিয়েছেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ মার্চ থেকে তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তার স্থায়ী ঠিকানায় একাধিকবার নোটিশ পাঠানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ ও ই-মেইলেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি কোনো নোটিশের জবাব দেননি।

অনুমোদনহীন অনুপস্থিতির সময় ৬০ দিন ছাড়িয়ে গেলে ২০২৫ সালের আগস্টে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। মামলায় ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ আনা হয়। তদন্তে উভয় অভিযোগই প্রমাণিত হয়।

এরপর তাকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পিএসসির মতামতের পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে তাকে বরখাস্ত করা হয়। তার বরখাস্তের আদেশ ২০২৫ সালের ৯ মার্চ থেকে কার্যকর হয়েছে।