আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে রাখার জন্য ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনের উদ্যোগে একমত হয়েছে পাঁচটি ইইউভুক্ত দেশ।
শুক্রবার ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ডেনমার্ক, গ্রিস, অস্ট্রিয়া, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস এ বিষয়ে সম্মতি জানায়। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে উদ্যোগটি কার্যকরের লক্ষ্য নিয়ে দেশগুলো কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।
ডেনমার্কের অভিবাসনমন্ত্রী মর্টেন বোডস্কভ বলেন, নতুন বছরের আশপাশে ইইউর বাইরের কোনো অংশীদার দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা করছেন তারা। ইইউর আশ্রয় ও অভিবাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে উগান্ডা ও রুয়ান্ডার নাম আলোচনায় রয়েছে।
গ্রিসের অভিবাসন ও আশ্রয়বিষয়ক মন্ত্রী থানস প্লেভরিস জানান, ২০২৭ সালের মধ্যে ইইউর বাইরে একটি দেশে ‘রিটার্ন হাব’ চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা ইতোমধ্যে অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডেনমার্ক এর আগে জানিয়েছিল, এ ধরনের কেন্দ্রে আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত ব্যক্তিদের ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ পাঠানোর প্রস্তুতি রয়েছে। ফলে কার্যক্রম শুরুর সময় নিয়ে দেশগুলোর পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
গত জুনে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর পদক্ষেপ অনুমোদন করে। এর আওতায় অভিবাসীদের আটক রাখার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ইইউর বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ উদ্যোগের সমালোচনা করে আসছে। তাদের আশঙ্কা, ইইউর বাইরে এমন কেন্দ্র স্থাপনের ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
এর আগে যুক্তরাজ্য অবৈধ অভিবাসীদের রুয়ান্ডায় পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল, তবে পরে সেই উদ্যোগ বাতিল করা হয়। একইভাবে ইতালির উদ্যোগে আলবেনিয়ায় অভিবাসীদের প্রক্রিয়াকরণের জন্য স্থাপিত কেন্দ্রগুলোও আইনি জটিলতার মুখে পড়েছে এবং সেখানে প্রত্যাশার তুলনায় খুব কমসংখ্যক অভিবাসী পাঠানো হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















