ঢাকা ০২:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা রক্ষায় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা জরুরি: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল মাইশার মৃত্যুর ঘটনায় ঘাতক লরি চালক গ্রেফতার ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ওমান, প্লে-অফে নামিবিয়াসহ চার দল শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরাতে প্রশাসনের মাইকিং প্রচারণা জামালগঞ্জে কারিতাসের বিনামূল্যে পশু-পাখির টিকাদান কর্মসূচি ১৯ নভেম্বর থেকে ঢাকা-পাবনা রুটে চালু হচ্ছে নতুন দুই আন্তঃনগর ট্রেন ফেনীর মহিপালে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার বেনাপোলে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বন্দর শ্রমিকদের বিক্ষোভ মিছিল অনুমোদনহীন প্ল্যান্টে ৮ লাখ টন হেভি ক্রুড আমদানির অনুমতি চায় সুপার পেট্রোকেমিক্যাল সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নে কাজ শুরু, ১৫ মামলায় জরিমানা ৫৫ হাজার টাকা

ডিআর কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব, আক্রান্ত ৭ হাজার ছাড়িয়েছে

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ ৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এটি এখন পর্যন্ত দেশটিতে ইবোলার সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী প্রাদুর্ভাব।

সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, সংক্রমণ নতুন একটি প্রদেশে শনাক্ত হলেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে সপ্তম প্রদেশে ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পরও বিভিন্ন সূচকে সংক্রমণের হার কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মে মাসের মাঝামাঝি শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ২২টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৩ হাজার ৩৯৮ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৬৭১ জন। এটি দেশটিতে ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব।

কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশ থেকে এবারের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। পরে সংঘাতপ্রবণ ও দুর্গম পূর্ব এবং উত্তরাঞ্চলেও ভাইরাসটির বিস্তার ঘটে। এসব এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা, দুর্বল সরকারি নিয়ন্ত্রণ এবং সীমিত স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি মোকাবিলাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

সম্প্রতি সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও কঙ্গো-ব্রাজাভিলের সীমান্তবর্তী সাউথ-উবাঙ্গি প্রদেশেও ইবোলা শনাক্ত হয়েছে।

কঙ্গো সরকারের মুখপাত্র প্যাট্রিক মুয়ায়া জানিয়েছেন, আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহের শুরুতেই সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষণ দেখা যায়। বর্তমানে আক্রান্ত ৬১টি স্বাস্থ্য অঞ্চলের মধ্যে ১০টিতে টানা অন্তত ২১ দিন নতুন কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।

তবে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হওয়া ইতুরি প্রদেশে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর স্কুল খোলার কয়েক দিনের মধ্যেই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইবোলা সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় অভিভাবক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

বুনিয়ার এক শিক্ষার্থীর মা অ্যাঞ্জেল মাগানি বলেন, সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন। কারণ কোনো শিক্ষার্থীর পরিবারে সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা সবসময় জানা সম্ভব নয়।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্কুলগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি আরও কঠোর করা হয়েছে। বুনিয়ার স্কুল কর্মকর্তা রজার মুঙ্গিম্বো জানান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত হাত ধোয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় শারীরিক সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার বিষয়ে শিশুদের সচেতন করা হচ্ছে।

ইবোলা আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, লালা বা অন্যান্য শারীরিক তরলের সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতা ব্যাহত করার পাশাপাশি মারাত্মক রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলা ভাইরাসের ধরন বুন্দিবুগিও। এই ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে কয়েকটি সম্ভাব্য টিকা ও চিকিৎসাপদ্ধতি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা রক্ষায় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা জরুরি: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

ডিআর কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব, আক্রান্ত ৭ হাজার ছাড়িয়েছে

Update Time : ১১:১৮:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ ৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এটি এখন পর্যন্ত দেশটিতে ইবোলার সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী প্রাদুর্ভাব।

সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, সংক্রমণ নতুন একটি প্রদেশে শনাক্ত হলেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে সপ্তম প্রদেশে ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পরও বিভিন্ন সূচকে সংক্রমণের হার কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মে মাসের মাঝামাঝি শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ২২টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৩ হাজার ৩৯৮ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৬৭১ জন। এটি দেশটিতে ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব।

কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশ থেকে এবারের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। পরে সংঘাতপ্রবণ ও দুর্গম পূর্ব এবং উত্তরাঞ্চলেও ভাইরাসটির বিস্তার ঘটে। এসব এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা, দুর্বল সরকারি নিয়ন্ত্রণ এবং সীমিত স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি মোকাবিলাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

সম্প্রতি সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও কঙ্গো-ব্রাজাভিলের সীমান্তবর্তী সাউথ-উবাঙ্গি প্রদেশেও ইবোলা শনাক্ত হয়েছে।

কঙ্গো সরকারের মুখপাত্র প্যাট্রিক মুয়ায়া জানিয়েছেন, আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহের শুরুতেই সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষণ দেখা যায়। বর্তমানে আক্রান্ত ৬১টি স্বাস্থ্য অঞ্চলের মধ্যে ১০টিতে টানা অন্তত ২১ দিন নতুন কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।

তবে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হওয়া ইতুরি প্রদেশে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর স্কুল খোলার কয়েক দিনের মধ্যেই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইবোলা সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় অভিভাবক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

বুনিয়ার এক শিক্ষার্থীর মা অ্যাঞ্জেল মাগানি বলেন, সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন। কারণ কোনো শিক্ষার্থীর পরিবারে সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা সবসময় জানা সম্ভব নয়।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্কুলগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি আরও কঠোর করা হয়েছে। বুনিয়ার স্কুল কর্মকর্তা রজার মুঙ্গিম্বো জানান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত হাত ধোয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় শারীরিক সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার বিষয়ে শিশুদের সচেতন করা হচ্ছে।

ইবোলা আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, লালা বা অন্যান্য শারীরিক তরলের সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতা ব্যাহত করার পাশাপাশি মারাত্মক রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলা ভাইরাসের ধরন বুন্দিবুগিও। এই ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে কয়েকটি সম্ভাব্য টিকা ও চিকিৎসাপদ্ধতি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।