উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্ভাবন, গবেষণা ও উদ্যোক্তা তৈরির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ইনোভেশন হাব, ইনকিউবেশন সেন্টার এবং সমন্বিত স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন।
শুক্রবার সাভারের ব্র্যাক সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজমেন্টে (ব্র্যাক সিডিএম) ‘উপাচার্যদের সংলাপ: উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী জাতীয় সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) এ সংলাপের আয়োজন করে।
ড. মাহ্দী আমিন বলেন, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ ইনোভেশন ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণাগুলোকে শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সরকারি অনুদান ও অর্থায়নের মাধ্যমে সফল উদ্যোগ বা স্টার্টআপে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় শিল্পাঞ্চল, হাইটেক পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চল থাকলেও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংযোগ এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এই দূরত্ব কমিয়ে শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতার একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের লাইসেন্সিংসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে নীতিগত সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ বাড়াতেও সরকার ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।
গবেষণার বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রত্যাশা রয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রবেশাধিকার, আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদদের ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি ও ফেলোশিপের মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষায়, সরকারের লক্ষ্য হলো ‘ব্রেইন ড্রেইন’কে ‘ব্রেইন সার্কুলেশনে’ রূপান্তর করা।
ড. মাহ্দী আমিন আরও বলেন, সামার স্কুল, সহজ ক্রেডিট ট্রান্সফার ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের উচ্চশিক্ষাকে আরও নমনীয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈশ্বিক মানের করে তোলা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাফল্যের সঙ্গে পড়াশোনা ও গবেষণা করছে। দেশে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও অনুকূল গবেষণা পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়েও বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান উন্নত করা সম্ভব।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, জাতীয় সংলাপে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন সমস্যা, প্রতিবন্ধকতা এবং মানোন্নয়নের উপায় নিয়ে মতামত দিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে নয়, নীতি, আদর্শ ও সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবেও গড়ে উঠবে। পাশাপাশি দেশ ও বিদেশের শ্রমবাজারে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগও নিশ্চিত করা হবে।
অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক, ইউজিসি চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
দুই দিনব্যাপী এ জাতীয় সংলাপে দেশের প্রায় ৬৫টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, নীতিনির্ধারক, দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ এবং উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















