দেশের সব সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল অটোমেশন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে রোগীদের ব্যক্তিগত ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সরকারি দলের সদস্য সুলতানা আহমেদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক পরিবর্তন ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সরকার ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে খুলনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, নোয়াখালী, ঝালকাঠি ও নরসিংদী—এই ছয় জেলায় প্রাথমিকভাবে ই-হেলথ কার্ড চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটাল অটোমেশন বাস্তবায়নের জন্য ‘প্রজেক্ট রেডিনেস অ্যাক্টিভিটিজ অ্যান্ড পাইলটিং ফর হেলথ সেক্টর ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন প্রোগ্রাম ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি পাইলট প্রকল্প প্রস্তাব স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল হেলথ ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। সেখানে রোগীর পূর্ববর্তী অসুস্থতার ইতিহাস, বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার ফলাফল এবং চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যতথ্য নিরাপদ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হবে।
এর ফলে কোনো রোগী এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে গেলে কিংবা নতুন চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে অনুমোদিত চিকিৎসক সহজেই রোগীর আগের চিকিৎসা ইতিহাস দেখতে পারবেন। এতে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি একই ধরনের পরীক্ষা বারবার করার প্রয়োজন কমবে। ফলে রোগীদের সময়, ভোগান্তি ও চিকিৎসা ব্যয়ও কমতে পারে।
মন্ত্রী জানান, নির্ধারিত ছয় জেলায় পাইলট কার্যক্রম সফলভাবে শেষ করার পর দেশব্যাপী প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সংযোজনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে দেশের সব সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড ও সমন্বিত ডিজিটাল স্বাস্থ্য রেকর্ড (EHR) সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় রোগীর তথ্য ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসাসেবার সমন্বয় এবং হাসপাতালগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















