ঢাকা ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :

নেত্রকোণার তিন উপজেলায় মোবাইল কোর্ট: কারাদণ্ড-জরিমানা, জব্দ বালু

জনস্বার্থ রক্ষা, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, বাজারে নিত্যপণ্যের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে নেত্রকোণার তিন উপজেলায় দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন।

বুধবার মোহনগঞ্জ, নেত্রকোণা সদর ও কলমাকান্দা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথকভাবে এসব অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দুই ব্যক্তিকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আদায় করা হয়েছে মোট ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যের অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু জব্দ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, মোহনগঞ্জ উপজেলার টেংগাপাড়া স্লুইস গেইট এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, পরিবহন ও বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম. এ. কাদের।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মো. কিবরিয়া (৪০) ও মো. সহিদ মিয়াকে (৩০) এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। একই অভিযানে মোহনগঞ্জের মো. মানিক মিয়াকে (৪৯) ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, নেত্রকোণা সদর উপজেলার বাসস্ট্যান্ড ও চল্লিশা এলাকায় সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে বাজার মনিটরিং করা হয়। অভিযানে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫৬ ভঙ্গের ঘটনায় একটি মামলায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া এলপিজি সিলিন্ডার সংরক্ষণের একটি গোডাউনে অনিয়ম পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী আরও ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

কলমাকান্দা উপজেলার কালিহালা এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামছুজ্জামান আসিফের নেতৃত্বে পৃথক অভিযান চালানো হয়। এ সময় অবৈধভাবে উত্তোলন করা আনুমানিক ৫ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়। জব্দ করা বালুর আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এ ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে। জব্দ বালু স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

মুকসুদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক নিহত

নেত্রকোণার তিন উপজেলায় মোবাইল কোর্ট: কারাদণ্ড-জরিমানা, জব্দ বালু

Update Time : ০৬:৪৯:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

জনস্বার্থ রক্ষা, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, বাজারে নিত্যপণ্যের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে নেত্রকোণার তিন উপজেলায় দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন।

বুধবার মোহনগঞ্জ, নেত্রকোণা সদর ও কলমাকান্দা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথকভাবে এসব অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দুই ব্যক্তিকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আদায় করা হয়েছে মোট ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যের অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু জব্দ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, মোহনগঞ্জ উপজেলার টেংগাপাড়া স্লুইস গেইট এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, পরিবহন ও বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম. এ. কাদের।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মো. কিবরিয়া (৪০) ও মো. সহিদ মিয়াকে (৩০) এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। একই অভিযানে মোহনগঞ্জের মো. মানিক মিয়াকে (৪৯) ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, নেত্রকোণা সদর উপজেলার বাসস্ট্যান্ড ও চল্লিশা এলাকায় সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে বাজার মনিটরিং করা হয়। অভিযানে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫৬ ভঙ্গের ঘটনায় একটি মামলায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া এলপিজি সিলিন্ডার সংরক্ষণের একটি গোডাউনে অনিয়ম পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী আরও ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

কলমাকান্দা উপজেলার কালিহালা এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামছুজ্জামান আসিফের নেতৃত্বে পৃথক অভিযান চালানো হয়। এ সময় অবৈধভাবে উত্তোলন করা আনুমানিক ৫ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়। জব্দ করা বালুর আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এ ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে। জব্দ বালু স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।