ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলায় সৌদি আরবে ১৩ বেসামরিক আহত আগাম সতর্কতা ছিল, তবু ফিলিপসকে ঠেকাতে ব্যর্থ নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ২২ হাজার ৩৮৯টি আইনি পরামর্শ দিয়েছে লিগ্যাল এইড প্রযুক্তি ও দক্ষতা বাড়িয়ে শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ: মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ-পাকিস্তান সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে পার্লামেন্টারি ডিপ্লোমেসির ওপর গুরুত্ব পিরোজপুরের চাঞ্চল্যকর ডাকাতি মামলায় আন্তঃজেলা ডাকাত সরদার মান্নু হাওলাদার গ্রেপ্তার গোসাইরহাটে কিশোরী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি রায়হান গ্রেপ্তার বেনাপোল দিয়ে আসছে বিদেশি ইলিশ, পদ্মার ইলিশের নামে বিক্রির অভিযোগ ভারতের সঙ্গে নতুন করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়তে চায় বাংলাদেশ সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন রিবাকিনা, শীর্ষে উঠলেন র‍্যাঙ্কিংয়েও

আগাম সতর্কতা ছিল, তবু ফিলিপসকে ঠেকাতে ব্যর্থ নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ

নিউজিল্যান্ডে টম ফিলিপস তার তিন সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার আগেই কর্তৃপক্ষ একাধিক সতর্কবার্তা পেয়েছিল। একই সঙ্গে তার কাছে বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র থাকার বিষয়েও তথ্য ছিল। তবে এসব সতর্কসংকেতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি প্রকাশিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

ফিলিপস প্রায় চার বছর ধরে সন্তানদের নিয়ে আত্মগোপনে থাকার পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এর আগে নিউজিল্যান্ডের উত্তর দ্বীপের ওয়াইকাটো অঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ি ও জঙ্গলে অস্থায়ী শিবির তৈরি করে তিনি সন্তানদের নিয়ে লুকিয়ে ছিলেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে সন্তানদের নিয়ে দ্বিতীয়বার নিখোঁজ হওয়ার আগেই ফিলিপস সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুতর উদ্বেগের তথ্য পৌঁছেছিল। এর আগে একই বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি তিন সন্তানকে নিয়ে প্রথমবার নিখোঁজ হন। ১৮ দিন পর জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসেন।

প্রথমবার নিখোঁজ হওয়ার সময় একটি সমুদ্রসৈকতে তার গাড়ি পাওয়া যায়। গাড়িটি জোয়ারের পানির নিচে ছিল। সে সময় পুলিশ ধারণা করেছিল, ফিলিপস হয়তো নিজের ও সন্তানদের মৃত্যুর নাটক সাজিয়েছেন। পরে জঙ্গল থেকে ফিরে আসার ঘটনায় পুলিশের সময় ও সম্পদ অপচয়ের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

তদন্তে জানা যায়, ওই সময় পুলিশ আশঙ্কা করেছিল যে ফিলিপস আবারও সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শিশু বিষয়ক কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি।

এদিকে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার লাইসেন্স হারানোর পরও তার অস্ত্রগুলো শনাক্ত ও জব্দ করতে পুলিশ ব্যর্থ হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের মতে, এসব বিষয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে শিশুদের দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হতে পারত।

ফিলিপসের দ্বিতীয়বার নিখোঁজ হওয়ার আগের দুই মাসে তার সন্তানদের বড় সৎভাই-বোনেরাও উদ্বেগের কথা সমাজকর্মীদের জানিয়েছিলেন। তাদের একজন সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন, শিশুরা আবার নিখোঁজ হলে এর দায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ওপর পড়বে কি না।

অন্য একজন মন্ত্রণালয়ে হলফনামাও জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হয়নি। তদন্তে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন, হলফনামাটি পড়া হলে সেখানে থাকা তথ্য ফিলিপসকে কঠিন প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারত এবং বিষয়টি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

২১১ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার আগের পরিস্থিতি থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পুলিশের সঙ্গে প্রাণঘাতী বন্দুকযুদ্ধের পর তাদের উদ্ধারের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন সংস্থা দীর্ঘ সময় ধরে শিশুদের পরিবার, বন্ধু ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। কোথাও বিষয়টি খাটো করে দেখা হয়েছে, আবার কোথাও পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের শিশু বিষয়ক মন্ত্রী লুইস আপস্টন শিশুদের উদ্দেশে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তাদের সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সম্ভাব্য সব বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়নি।

শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রধান নির্বাহী আমান্ডা মালুও তদন্ত প্রতিবেদনকে বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, পরিবারটির কথা যেভাবে শোনা প্রয়োজন ছিল, সেভাবে শোনা হয়নি এবং তারা আরও ভালো সেবা পাওয়ার অধিকার রাখত।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলায় সৌদি আরবে ১৩ বেসামরিক আহত

আগাম সতর্কতা ছিল, তবু ফিলিপসকে ঠেকাতে ব্যর্থ নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ

Update Time : ০৫:৩৮:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউজিল্যান্ডে টম ফিলিপস তার তিন সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার আগেই কর্তৃপক্ষ একাধিক সতর্কবার্তা পেয়েছিল। একই সঙ্গে তার কাছে বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র থাকার বিষয়েও তথ্য ছিল। তবে এসব সতর্কসংকেতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি প্রকাশিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

ফিলিপস প্রায় চার বছর ধরে সন্তানদের নিয়ে আত্মগোপনে থাকার পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এর আগে নিউজিল্যান্ডের উত্তর দ্বীপের ওয়াইকাটো অঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ি ও জঙ্গলে অস্থায়ী শিবির তৈরি করে তিনি সন্তানদের নিয়ে লুকিয়ে ছিলেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে সন্তানদের নিয়ে দ্বিতীয়বার নিখোঁজ হওয়ার আগেই ফিলিপস সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুতর উদ্বেগের তথ্য পৌঁছেছিল। এর আগে একই বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি তিন সন্তানকে নিয়ে প্রথমবার নিখোঁজ হন। ১৮ দিন পর জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসেন।

প্রথমবার নিখোঁজ হওয়ার সময় একটি সমুদ্রসৈকতে তার গাড়ি পাওয়া যায়। গাড়িটি জোয়ারের পানির নিচে ছিল। সে সময় পুলিশ ধারণা করেছিল, ফিলিপস হয়তো নিজের ও সন্তানদের মৃত্যুর নাটক সাজিয়েছেন। পরে জঙ্গল থেকে ফিরে আসার ঘটনায় পুলিশের সময় ও সম্পদ অপচয়ের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

তদন্তে জানা যায়, ওই সময় পুলিশ আশঙ্কা করেছিল যে ফিলিপস আবারও সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শিশু বিষয়ক কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি।

এদিকে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার লাইসেন্স হারানোর পরও তার অস্ত্রগুলো শনাক্ত ও জব্দ করতে পুলিশ ব্যর্থ হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের মতে, এসব বিষয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে শিশুদের দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হতে পারত।

ফিলিপসের দ্বিতীয়বার নিখোঁজ হওয়ার আগের দুই মাসে তার সন্তানদের বড় সৎভাই-বোনেরাও উদ্বেগের কথা সমাজকর্মীদের জানিয়েছিলেন। তাদের একজন সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন, শিশুরা আবার নিখোঁজ হলে এর দায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ওপর পড়বে কি না।

অন্য একজন মন্ত্রণালয়ে হলফনামাও জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হয়নি। তদন্তে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন, হলফনামাটি পড়া হলে সেখানে থাকা তথ্য ফিলিপসকে কঠিন প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারত এবং বিষয়টি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

২১১ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার আগের পরিস্থিতি থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পুলিশের সঙ্গে প্রাণঘাতী বন্দুকযুদ্ধের পর তাদের উদ্ধারের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন সংস্থা দীর্ঘ সময় ধরে শিশুদের পরিবার, বন্ধু ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। কোথাও বিষয়টি খাটো করে দেখা হয়েছে, আবার কোথাও পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের শিশু বিষয়ক মন্ত্রী লুইস আপস্টন শিশুদের উদ্দেশে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তাদের সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সম্ভাব্য সব বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়নি।

শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রধান নির্বাহী আমান্ডা মালুও তদন্ত প্রতিবেদনকে বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, পরিবারটির কথা যেভাবে শোনা প্রয়োজন ছিল, সেভাবে শোনা হয়নি এবং তারা আরও ভালো সেবা পাওয়ার অধিকার রাখত।