নিউজিল্যান্ডে টম ফিলিপস তার তিন সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার আগেই কর্তৃপক্ষ একাধিক সতর্কবার্তা পেয়েছিল। একই সঙ্গে তার কাছে বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র থাকার বিষয়েও তথ্য ছিল। তবে এসব সতর্কসংকেতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি প্রকাশিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
ফিলিপস প্রায় চার বছর ধরে সন্তানদের নিয়ে আত্মগোপনে থাকার পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এর আগে নিউজিল্যান্ডের উত্তর দ্বীপের ওয়াইকাটো অঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ি ও জঙ্গলে অস্থায়ী শিবির তৈরি করে তিনি সন্তানদের নিয়ে লুকিয়ে ছিলেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে সন্তানদের নিয়ে দ্বিতীয়বার নিখোঁজ হওয়ার আগেই ফিলিপস সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুতর উদ্বেগের তথ্য পৌঁছেছিল। এর আগে একই বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি তিন সন্তানকে নিয়ে প্রথমবার নিখোঁজ হন। ১৮ দিন পর জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসেন।
প্রথমবার নিখোঁজ হওয়ার সময় একটি সমুদ্রসৈকতে তার গাড়ি পাওয়া যায়। গাড়িটি জোয়ারের পানির নিচে ছিল। সে সময় পুলিশ ধারণা করেছিল, ফিলিপস হয়তো নিজের ও সন্তানদের মৃত্যুর নাটক সাজিয়েছেন। পরে জঙ্গল থেকে ফিরে আসার ঘটনায় পুলিশের সময় ও সম্পদ অপচয়ের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।
তদন্তে জানা যায়, ওই সময় পুলিশ আশঙ্কা করেছিল যে ফিলিপস আবারও সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শিশু বিষয়ক কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি।
এদিকে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার লাইসেন্স হারানোর পরও তার অস্ত্রগুলো শনাক্ত ও জব্দ করতে পুলিশ ব্যর্থ হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের মতে, এসব বিষয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে শিশুদের দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হতে পারত।
ফিলিপসের দ্বিতীয়বার নিখোঁজ হওয়ার আগের দুই মাসে তার সন্তানদের বড় সৎভাই-বোনেরাও উদ্বেগের কথা সমাজকর্মীদের জানিয়েছিলেন। তাদের একজন সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন, শিশুরা আবার নিখোঁজ হলে এর দায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ওপর পড়বে কি না।
অন্য একজন মন্ত্রণালয়ে হলফনামাও জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হয়নি। তদন্তে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন, হলফনামাটি পড়া হলে সেখানে থাকা তথ্য ফিলিপসকে কঠিন প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারত এবং বিষয়টি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
২১১ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার আগের পরিস্থিতি থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পুলিশের সঙ্গে প্রাণঘাতী বন্দুকযুদ্ধের পর তাদের উদ্ধারের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন সংস্থা দীর্ঘ সময় ধরে শিশুদের পরিবার, বন্ধু ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। কোথাও বিষয়টি খাটো করে দেখা হয়েছে, আবার কোথাও পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের শিশু বিষয়ক মন্ত্রী লুইস আপস্টন শিশুদের উদ্দেশে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তাদের সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সম্ভাব্য সব বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়নি।
শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রধান নির্বাহী আমান্ডা মালুও তদন্ত প্রতিবেদনকে বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, পরিবারটির কথা যেভাবে শোনা প্রয়োজন ছিল, সেভাবে শোনা হয়নি এবং তারা আরও ভালো সেবা পাওয়ার অধিকার রাখত।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 


















