ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
শার্শা-বেনাপোলসহ সব বাজারে ৩০০ টাকার কাচাঁ মরিচ ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, ১০ দিনে ২৩৩ টন আমদানি কুড়িগ্রামে ২৫ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাই পণ্য উদ্ধার মাদারীপুর কমিউনিটি, ফিরেন্সের উদ্যোগে বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামিলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার ইরানি তিন পাইলটকে আটকের দাবি তেহরানের, অস্বীকার কাতারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই আজ শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক খণ্ডকালীন শিক্ষক পুল সিদ্ধিরগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত

শার্শা-বেনাপোলসহ সব বাজারে ৩০০ টাকার কাচাঁ মরিচ ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, ১০ দিনে ২৩৩ টন আমদানি

ভারত থেকে বেনাপোল দিয়ে কাচাঁ মরিচ আমদানি স্বাভাবিক থাকায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। সে কারণে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে কাঁচা মরিচের দামে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে যশোরের শার্শা-বেনাপোলসহ বিভিন্ন খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ২০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। হঠাৎ এই দরপতনে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন ৩০০ টাকার মরিচ ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারত থেকে বেনাপোল দিয়ে ১০ দিনে ২৩৩ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে।
গত ৩ আগস্ট প্রথম চালানে ৯,২০০ কেজি (৯.২ টন), ৪ আগস্ট দ্বিতীয় চালানে ৪২,২২০ কেজি (৪২.২২ টন), ৬ আগস্ট ১৪,০০০ কেজি (১৪ টন), ৮ আগষ্ট ১৫,০০০ কেজি (১৫ টন), ৯ আগস্ট ১৪,০০০ কেজি (১৪ টন), ১০ আগষ্ট ১৪,০০০ কেজি (১৪ টন), ১১ আগষ্ট ৫৬,০০০ কেজি (৫৬ টন), ১২ আগস্ট ২৮,০০০ কেজি (২৮ টন), ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার ২৮,০০০ কেজি (২৮ টন) এবং সবশেষ রবিবার (১৬ আগস্ট) ১৩,৫০০ কেজি (১৩.৫ টন) কাচাঁ মরিচ ভারত থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়। এ নিয়ে ৩ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত ১০ কার্যদিবসে প্রায় ২৩৩ টন কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে। আমদানি শুরু হওয়ায় শার্শা-বেনাপোলসহ আশেপাশের সব বাজারে মরিচের দাম ৩০০ টাকা থেকে কমে বর্তমানে বাজারে ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আজ সোমবার শার্শার বেনাপোল, নাভারন ও বাগআঁচড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন বাজার দর।
সরেজমিনে এসব খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। অথচ মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহের ওপর নির্ভর করে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছিল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত।
তবে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি হওয়ার কারণে দামে অনেকটাই স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শুধু তাই নয়, দেশের প্রধান মরিচ উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলো থেকেও মরিচের জোগান বাজারে হঠাৎ অনেকাংশ বেড়েছে বলেও মনে করেন তারা।
বেনাপোল বাজারে কাঁচা মরিচ বিক্রেতা রাশেদ আলী বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে নিয়মিত কাঁচা মরিচ আমদানি অব্যাহত থাকায় বাজারে সরবরাহের কোনো ঘাটতি হয়নি। একইসঙ্গে বন্যার কারণে কৃষকের উৎপাদন ব্যাহত হলেও এখন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকারি বাজারে মরিচ আসছে, এতে দাম কমে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাজার করতে আসা রাসেল হোসেন সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, রান্নাবান্নার অন্যতম প্রয়োজনীয় পণ্য কাঁচা মরিচ। কয়েক দিন আগেও দাম অতিরিক্ত থাকায় ৫০ গ্রামের বেশি কিনতে হিমশিম খেতে হতো। ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমে যাওয়া সত্যি স্বস্তিদায়ক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আমদানিকারক শামীম হোসেন বলেন, কাচাঁ মরিচ আমদানির প্রভাবে বাজারে তিন ভাগের দুইভাগ দাম কমে গেছে। প্রতিদিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে কাচাঁ মরিচ আমদানি হচ্ছে। এ ধারাবাহিকতা অব্যহত থাকলে কাচাঁ মরিচের দাম কমে ৫০ টাকায় নেমে আসবে। তখন আর আমদানিকে পোষাবে না।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পচনশীল কৃষিপণ্যের বাজার হঠাৎ ওঠানামা ঠেকাতে স্থায়ী সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা জরুরি। এ ছাড়া স্থানীয় সরবরাহ ভালো থাকলে আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বাজারকে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
বেনাপোল চেকপোস্ট উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কর্মকর্তা শ্যামল কুমার নাথ জানান, ভারত থেকে প্রতিদিনই কাচাঁ মরিচ বাংলাদেশে আমদানি হচ্ছে। সে কারনে বাজারে দাম ৩০০ থেকে নেমে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি মাসের ৩ থেকে ১৬ তারিখের মধ্যে ১০ কার্যদিবসে প্রায় ২৩৩ টন কাচাঁ মরিচ বেনাপোল বন্দরে আমদানি হয়েছে। আরও বেশ কিছু কাচাঁ মরিচ বোঝাই ট্রাক পেট্রাপোল বন্দর থেকে বেনাপোল বন্দরে ঢোকার অপেক্ষায় রয়েছে। এ চালানগুলো ঢুকলে দাম আরও কমে যাবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

শার্শা-বেনাপোলসহ সব বাজারে ৩০০ টাকার কাচাঁ মরিচ ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, ১০ দিনে ২৩৩ টন আমদানি

শার্শা-বেনাপোলসহ সব বাজারে ৩০০ টাকার কাচাঁ মরিচ ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, ১০ দিনে ২৩৩ টন আমদানি

Update Time : ০৭:২৭:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
ভারত থেকে বেনাপোল দিয়ে কাচাঁ মরিচ আমদানি স্বাভাবিক থাকায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। সে কারণে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে কাঁচা মরিচের দামে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে যশোরের শার্শা-বেনাপোলসহ বিভিন্ন খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ২০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। হঠাৎ এই দরপতনে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন ৩০০ টাকার মরিচ ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারত থেকে বেনাপোল দিয়ে ১০ দিনে ২৩৩ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে।
গত ৩ আগস্ট প্রথম চালানে ৯,২০০ কেজি (৯.২ টন), ৪ আগস্ট দ্বিতীয় চালানে ৪২,২২০ কেজি (৪২.২২ টন), ৬ আগস্ট ১৪,০০০ কেজি (১৪ টন), ৮ আগষ্ট ১৫,০০০ কেজি (১৫ টন), ৯ আগস্ট ১৪,০০০ কেজি (১৪ টন), ১০ আগষ্ট ১৪,০০০ কেজি (১৪ টন), ১১ আগষ্ট ৫৬,০০০ কেজি (৫৬ টন), ১২ আগস্ট ২৮,০০০ কেজি (২৮ টন), ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার ২৮,০০০ কেজি (২৮ টন) এবং সবশেষ রবিবার (১৬ আগস্ট) ১৩,৫০০ কেজি (১৩.৫ টন) কাচাঁ মরিচ ভারত থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়। এ নিয়ে ৩ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত ১০ কার্যদিবসে প্রায় ২৩৩ টন কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে। আমদানি শুরু হওয়ায় শার্শা-বেনাপোলসহ আশেপাশের সব বাজারে মরিচের দাম ৩০০ টাকা থেকে কমে বর্তমানে বাজারে ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আজ সোমবার শার্শার বেনাপোল, নাভারন ও বাগআঁচড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন বাজার দর।
সরেজমিনে এসব খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। অথচ মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহের ওপর নির্ভর করে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছিল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত।
তবে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি হওয়ার কারণে দামে অনেকটাই স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শুধু তাই নয়, দেশের প্রধান মরিচ উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলো থেকেও মরিচের জোগান বাজারে হঠাৎ অনেকাংশ বেড়েছে বলেও মনে করেন তারা।
বেনাপোল বাজারে কাঁচা মরিচ বিক্রেতা রাশেদ আলী বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে নিয়মিত কাঁচা মরিচ আমদানি অব্যাহত থাকায় বাজারে সরবরাহের কোনো ঘাটতি হয়নি। একইসঙ্গে বন্যার কারণে কৃষকের উৎপাদন ব্যাহত হলেও এখন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকারি বাজারে মরিচ আসছে, এতে দাম কমে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাজার করতে আসা রাসেল হোসেন সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, রান্নাবান্নার অন্যতম প্রয়োজনীয় পণ্য কাঁচা মরিচ। কয়েক দিন আগেও দাম অতিরিক্ত থাকায় ৫০ গ্রামের বেশি কিনতে হিমশিম খেতে হতো। ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমে যাওয়া সত্যি স্বস্তিদায়ক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আমদানিকারক শামীম হোসেন বলেন, কাচাঁ মরিচ আমদানির প্রভাবে বাজারে তিন ভাগের দুইভাগ দাম কমে গেছে। প্রতিদিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে কাচাঁ মরিচ আমদানি হচ্ছে। এ ধারাবাহিকতা অব্যহত থাকলে কাচাঁ মরিচের দাম কমে ৫০ টাকায় নেমে আসবে। তখন আর আমদানিকে পোষাবে না।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পচনশীল কৃষিপণ্যের বাজার হঠাৎ ওঠানামা ঠেকাতে স্থায়ী সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা জরুরি। এ ছাড়া স্থানীয় সরবরাহ ভালো থাকলে আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বাজারকে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
বেনাপোল চেকপোস্ট উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কর্মকর্তা শ্যামল কুমার নাথ জানান, ভারত থেকে প্রতিদিনই কাচাঁ মরিচ বাংলাদেশে আমদানি হচ্ছে। সে কারনে বাজারে দাম ৩০০ থেকে নেমে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি মাসের ৩ থেকে ১৬ তারিখের মধ্যে ১০ কার্যদিবসে প্রায় ২৩৩ টন কাচাঁ মরিচ বেনাপোল বন্দরে আমদানি হয়েছে। আরও বেশ কিছু কাচাঁ মরিচ বোঝাই ট্রাক পেট্রাপোল বন্দর থেকে বেনাপোল বন্দরে ঢোকার অপেক্ষায় রয়েছে। এ চালানগুলো ঢুকলে দাম আরও কমে যাবে।