সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে কাগজের ব্যবহার কমিয়ে সংসদের নথি, তথ্য সংরক্ষণ ও আদান-প্রদানের কার্যক্রম ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের লাইব্রেরি কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং কমিটির সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদ ও এ বি এম মোশাররফ হোসেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় সংসদে ই-পার্লামেন্ট ব্যবস্থা চালুর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন আয়োজনের নির্দেশনা দেন স্পিকার। প্রেজেন্টেশনে প্রস্তাবিত ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তুলে ধরা হবে।
বাংলা-ইংরেজি দুই ভাষায় থাকবে ব্যবস্থা
প্রস্তাবিত ই-পার্লামেন্ট ব্যবস্থায় বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষায় সেবা ও তথ্য ব্যবস্থাপনার সুযোগ রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থা চালু হলে সংসদীয় নথি তৈরি, সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত আদান-প্রদান আরও সহজ ও কার্যকর হবে।
ই-পার্লামেন্ট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ডেপুটি স্পিকারকে চেয়ারম্যান করে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দিয়েছেন স্পিকার। কমিটি প্রস্তাবিত সিস্টেমের কাঠামো, বাস্তবায়ন পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
কমবে কাগজের ব্যবহার, সাশ্রয় হবে সময় ও ব্যয়
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ই-পার্লামেন্ট চালু হলে সংসদের বিভিন্ন কার্যক্রম ও নথি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। এতে কাগজের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমার পাশাপাশি সময় ও প্রশাসনিক ব্যয় সাশ্রয় হবে।
একই সঙ্গে সংসদীয় কার্যক্রমে গতি, দক্ষতা ও বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে। দীর্ঘমেয়াদে এটি একটি পেপারবিহীন ও আধুনিক সংসদ প্রতিষ্ঠার পথকে আরও সুগম করবে।
ইউএনডিপি ও দাতা সংস্থার সহযোগিতা নেওয়ার উদ্যোগ
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করতে ইউএনডিপি, বিভিন্ন দাতা দেশ ও দাতা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে তাদের সহযোগিতা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়ন হলে সংসদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি নথি ব্যবস্থাপনা ও তথ্যপ্রবাহে আরও স্বচ্ছতা ও দক্ষতা আসবে। পেপারবিহীন সংসদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য বাস্তবায়নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















