পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু প্রতিরোধে শুধু সচেতনতা নয়, শিশুদের বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, একটি শিশু সাঁতার জানলে পানিতে দুর্ঘটনাবশত পড়ে যাওয়ার পর আত্মরক্ষার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
রোববার পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা পরিষদ চত্বরের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কর্মসূচিটির আয়োজন করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিশুদের সাঁতার শেখানোর ক্ষেত্রে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকেও এগিয়ে আসতে হবে। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সাঁতার শেখানোর ব্যবস্থা করা গেলে পানিতে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
সাঁতার জীবন রক্ষার দক্ষতা
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, সাঁতারকে কেবল বিনোদন বা শরীরচর্চা হিসেবে দেখলে হবে না। এটি প্রয়োজনে জীবন রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ একটি দক্ষতা। তাই শিশুদের জন্য নিয়মিত ও নিরাপদ সাঁতার প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাঁতার একই সঙ্গে শরীরচর্চা, বিনোদন এবং আত্মরক্ষার সক্ষমতা তৈরি করে।
জলাশয় রক্ষার পাশাপাশি বাড়াতে হবে মাছের উৎপাদন
বাংলাদেশে নদী, খাল, বিল ও পুকুরসহ অসংখ্য প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম জলাশয় রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব জলাশয় দেশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এগুলো মানুষের জীবন-জীবিকা ও পুষ্টির চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, জলাশয়গুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও পুষ্টির সুযোগও সম্প্রসারিত হতে পারে। এজন্য জলাশয় সংরক্ষণ এবং মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
পরিকল্পিতভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করার মাধ্যমে দেশের মৎস্যসম্পদ আরও সমৃদ্ধ করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি পুকুর, খাল-বিলসহ বিভিন্ন জলাশয় দূষণমুক্ত রাখতে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
মাছের পোনা অবমুক্ত ও সাঁতার প্রশিক্ষণের উদ্বোধন
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা পুকুরে অবমুক্ত করেন। পরে শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে সাঁতার শেখানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, স্থানীয় জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, জলজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং শিশুদের সাঁতারে দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে মৎস্যসম্পদের উন্নয়ন হবে, অন্যদিকে পানিতে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে শিশুদের আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কর্মসূচিতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক, শিশু, অভিভাবকসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণ এবং জলজ সম্পদ সংরক্ষণে ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















