ঢাকা ০২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
খুলনায় অস্ত্র-গুলিসহ ‘আরমান বাহিনী’র প্রধান গ্রেপ্তার ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীদের সম্মানী-উৎসব ভাতার উদ্যোগ, নতুন নীতিমালা জারি টেকেরহাটে গ্যারেজে রাখা প্রাইভেটকারে আগুন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এনবিআর সংস্কার আন্দোলনে শাস্তি পাওয়া ২০ কর্মকর্তার দণ্ড বাতিল হাসানের ৭ উইকেটে উস্টারশায়ারকে হারাল কেন্ট পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নিলেন অধ্যাপক ড. নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া শিশুদের সাঁতার শেখাতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর পেপারবিহীন সংসদ গড়তে ই-পার্লামেন্ট চালুর উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত কিছু অভিবাসীকে নিতে রাজি গায়ানা নরওয়ের প্রয়াত রাজা হ্যারাল্ডের শেষকৃত্যে চার্লসের বদলে যাচ্ছেন প্রিন্স উইলিয়াম

খুলনায় অস্ত্র-গুলিসহ ‘আরমান বাহিনী’র প্রধান গ্রেপ্তার

খুলনা মহানগরী ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করার অভিযোগে ‘আরমান বাহিনী’র প্রধান আরমান হোসেন দীপু ওরফে শুটার আরমান ওরফে আরমিনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৬। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার খুলনায় র‌্যাব-৬-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে রোববার রাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারের পর আরমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি শটগান ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আরমান খুলনা জেলার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা এলাকার বাসিন্দা এবং মো. আসাদুজ্জামান ওরফে মিন্টুর ছেলে। তার বিরুদ্ধে ছয়টি হত্যাকাণ্ডসহ দৌলতপুরের একটি মসজিদের ভেতরে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-৬-এর উপ-অধিনায়ক মো. নাজমুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আরমান দৌলতপুরের বিদ্যুৎ অফিসসংলগ্ন মসজিদে গুলি চালানোসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

র‌্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরমান জানিয়েছে, গত ১৭ জুন দৌলতপুরের ওই মসজিদে ঢুকে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সে সরাসরি জড়িত ছিল।

এ ছাড়া দৌলতপুর ও আড়ংঘাটা এলাকায় ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, অস্ত্র প্রদর্শন ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ব্যবসায়ীদের কাছে সৌদি আরব ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে চাঁদা দাবি করা হতো বলে র‌্যাব জানিয়েছে। চাঁদা না দিলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া কিংবা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

র‌্যাব আরও জানায়, আরমান একসময় খুলনার অপরাধজগতের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী হুমায়ুন কবির ওরফে হুমার দলের সদস্য ছিল। পরবর্তী সময়ে ওই দল থেকে বেরিয়ে এসে নিজেই ‘আরমান বাহিনী’ নামে একটি গ্রুপ গড়ে তোলে। দলটিতে ৮ থেকে ১০ জন সদস্য রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এর মধ্যে তিনজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, আরমানের আগের অপরাধের রেকর্ড পর্যালোচনা করে বেশ কয়েকটি হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মামুন মোল্লা, মারজান মুন্না, কালা রানা, ঘাউড়া রাজিব, যুবদল নেতা রাশু ও মনিরুল ইসলাম রনি হত্যা এবং দৌলতপুরের মসজিদে দুই মুসল্লিকে হত্যাচেষ্টার মামলাগুলো উল্লেখযোগ্য।

র‌্যাব-৬ জানিয়েছে, ‘আরমান বাহিনী’র সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় অস্ত্র-গুলিসহ ‘আরমান বাহিনী’র প্রধান গ্রেপ্তার

খুলনায় অস্ত্র-গুলিসহ ‘আরমান বাহিনী’র প্রধান গ্রেপ্তার

Update Time : ০৫:৫৮:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুলনা মহানগরী ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করার অভিযোগে ‘আরমান বাহিনী’র প্রধান আরমান হোসেন দীপু ওরফে শুটার আরমান ওরফে আরমিনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৬। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার খুলনায় র‌্যাব-৬-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে রোববার রাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারের পর আরমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি শটগান ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আরমান খুলনা জেলার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা এলাকার বাসিন্দা এবং মো. আসাদুজ্জামান ওরফে মিন্টুর ছেলে। তার বিরুদ্ধে ছয়টি হত্যাকাণ্ডসহ দৌলতপুরের একটি মসজিদের ভেতরে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-৬-এর উপ-অধিনায়ক মো. নাজমুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আরমান দৌলতপুরের বিদ্যুৎ অফিসসংলগ্ন মসজিদে গুলি চালানোসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

র‌্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরমান জানিয়েছে, গত ১৭ জুন দৌলতপুরের ওই মসজিদে ঢুকে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সে সরাসরি জড়িত ছিল।

এ ছাড়া দৌলতপুর ও আড়ংঘাটা এলাকায় ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, অস্ত্র প্রদর্শন ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ব্যবসায়ীদের কাছে সৌদি আরব ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে চাঁদা দাবি করা হতো বলে র‌্যাব জানিয়েছে। চাঁদা না দিলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া কিংবা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

র‌্যাব আরও জানায়, আরমান একসময় খুলনার অপরাধজগতের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী হুমায়ুন কবির ওরফে হুমার দলের সদস্য ছিল। পরবর্তী সময়ে ওই দল থেকে বেরিয়ে এসে নিজেই ‘আরমান বাহিনী’ নামে একটি গ্রুপ গড়ে তোলে। দলটিতে ৮ থেকে ১০ জন সদস্য রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এর মধ্যে তিনজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, আরমানের আগের অপরাধের রেকর্ড পর্যালোচনা করে বেশ কয়েকটি হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মামুন মোল্লা, মারজান মুন্না, কালা রানা, ঘাউড়া রাজিব, যুবদল নেতা রাশু ও মনিরুল ইসলাম রনি হত্যা এবং দৌলতপুরের মসজিদে দুই মুসল্লিকে হত্যাচেষ্টার মামলাগুলো উল্লেখযোগ্য।

র‌্যাব-৬ জানিয়েছে, ‘আরমান বাহিনী’র সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।