ঢাকা ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা ও সৌহার্দ্য জোরদারে বিজিবি-বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ে সীমান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামের অপহরণ, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার ভুয়া টিএ বিল, ‘ভগবান ডিউটি’ ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগে আলোচনায় আরএনবি ইন্সপেক্টর সালামত চট্টগ্রামে যুবদল কর্মী হত্যা মামলার প্রধান আসামি জুয়েলসহ গ্রেপ্তার ৩ জৈব সার ব্যবহারে ভর্তুকি দেওয়ার দাবি, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান হত্যা ও মানবপাচার মামলার আসামি মুকিম ঢাকায় গ্রেপ্তার জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস-২০২৬ উদযাপন সন্ত্রাস বিরোধী মামলায় কুড়িগ্রামে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার চট্টগ্রামে ডিবির অভিযানে দেশীয় তৈরি এলজি ও কার্তুজসহ গ্রেপ্তার ১ ঢাবির জগন্নাথ হল থেকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আটক, পুলিশের কাছে হস্তান্তর

খুলনায় অস্ত্র-গুলিসহ ‘আরমান বাহিনী’র প্রধান গ্রেপ্তার

খুলনা মহানগরী ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করার অভিযোগে ‘আরমান বাহিনী’র প্রধান আরমান হোসেন দীপু ওরফে শুটার আরমান ওরফে আরমিনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৬। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার খুলনায় র‌্যাব-৬-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে রোববার রাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারের পর আরমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি শটগান ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আরমান খুলনা জেলার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা এলাকার বাসিন্দা এবং মো. আসাদুজ্জামান ওরফে মিন্টুর ছেলে। তার বিরুদ্ধে ছয়টি হত্যাকাণ্ডসহ দৌলতপুরের একটি মসজিদের ভেতরে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-৬-এর উপ-অধিনায়ক মো. নাজমুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আরমান দৌলতপুরের বিদ্যুৎ অফিসসংলগ্ন মসজিদে গুলি চালানোসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

র‌্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরমান জানিয়েছে, গত ১৭ জুন দৌলতপুরের ওই মসজিদে ঢুকে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সে সরাসরি জড়িত ছিল।

এ ছাড়া দৌলতপুর ও আড়ংঘাটা এলাকায় ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, অস্ত্র প্রদর্শন ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ব্যবসায়ীদের কাছে সৌদি আরব ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে চাঁদা দাবি করা হতো বলে র‌্যাব জানিয়েছে। চাঁদা না দিলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া কিংবা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

র‌্যাব আরও জানায়, আরমান একসময় খুলনার অপরাধজগতের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী হুমায়ুন কবির ওরফে হুমার দলের সদস্য ছিল। পরবর্তী সময়ে ওই দল থেকে বেরিয়ে এসে নিজেই ‘আরমান বাহিনী’ নামে একটি গ্রুপ গড়ে তোলে। দলটিতে ৮ থেকে ১০ জন সদস্য রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এর মধ্যে তিনজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, আরমানের আগের অপরাধের রেকর্ড পর্যালোচনা করে বেশ কয়েকটি হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মামুন মোল্লা, মারজান মুন্না, কালা রানা, ঘাউড়া রাজিব, যুবদল নেতা রাশু ও মনিরুল ইসলাম রনি হত্যা এবং দৌলতপুরের মসজিদে দুই মুসল্লিকে হত্যাচেষ্টার মামলাগুলো উল্লেখযোগ্য।

র‌্যাব-৬ জানিয়েছে, ‘আরমান বাহিনী’র সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা ও সৌহার্দ্য জোরদারে বিজিবি-বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ে সীমান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত

খুলনায় অস্ত্র-গুলিসহ ‘আরমান বাহিনী’র প্রধান গ্রেপ্তার

Update Time : ০৫:৫৮:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুলনা মহানগরী ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করার অভিযোগে ‘আরমান বাহিনী’র প্রধান আরমান হোসেন দীপু ওরফে শুটার আরমান ওরফে আরমিনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৬। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার খুলনায় র‌্যাব-৬-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে রোববার রাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারের পর আরমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি শটগান ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আরমান খুলনা জেলার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা এলাকার বাসিন্দা এবং মো. আসাদুজ্জামান ওরফে মিন্টুর ছেলে। তার বিরুদ্ধে ছয়টি হত্যাকাণ্ডসহ দৌলতপুরের একটি মসজিদের ভেতরে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-৬-এর উপ-অধিনায়ক মো. নাজমুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আরমান দৌলতপুরের বিদ্যুৎ অফিসসংলগ্ন মসজিদে গুলি চালানোসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

র‌্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরমান জানিয়েছে, গত ১৭ জুন দৌলতপুরের ওই মসজিদে ঢুকে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সে সরাসরি জড়িত ছিল।

এ ছাড়া দৌলতপুর ও আড়ংঘাটা এলাকায় ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, অস্ত্র প্রদর্শন ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ব্যবসায়ীদের কাছে সৌদি আরব ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে চাঁদা দাবি করা হতো বলে র‌্যাব জানিয়েছে। চাঁদা না দিলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া কিংবা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

র‌্যাব আরও জানায়, আরমান একসময় খুলনার অপরাধজগতের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী হুমায়ুন কবির ওরফে হুমার দলের সদস্য ছিল। পরবর্তী সময়ে ওই দল থেকে বেরিয়ে এসে নিজেই ‘আরমান বাহিনী’ নামে একটি গ্রুপ গড়ে তোলে। দলটিতে ৮ থেকে ১০ জন সদস্য রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এর মধ্যে তিনজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, আরমানের আগের অপরাধের রেকর্ড পর্যালোচনা করে বেশ কয়েকটি হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মামুন মোল্লা, মারজান মুন্না, কালা রানা, ঘাউড়া রাজিব, যুবদল নেতা রাশু ও মনিরুল ইসলাম রনি হত্যা এবং দৌলতপুরের মসজিদে দুই মুসল্লিকে হত্যাচেষ্টার মামলাগুলো উল্লেখযোগ্য।

র‌্যাব-৬ জানিয়েছে, ‘আরমান বাহিনী’র সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।